এ মাসের শুরুতে মুক্তি পেয়েছে ‘মিশন: ইম্পসিবল-ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান’। সিনেমাটিতে বরাবরের মতোই ইথান হান্ট চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম ক্রুজ। মুক্তির ১০ দিনের মধ্যেই সিনেমাটি আয় করে ফেলেছে ১০ কোটি ডলার। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে টম ক্রুজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা ২০টি সিনেমা ১০ কোটির ক্লাবে ঢুকেছে। সিঙ্গেল মার্কেটে এটি রীতিমতো একটা রেকর্ড। অবশ্য টম ক্রুজ মানেই যেন রেকর্ড মেশিন। অতিমারী-পরবর্তী সময়ে তিনিই আশা দেখিয়েছেন বক্স অফিসকে। ১০০ কোটি ডলার আয় করার পর ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ এখনো আছে আলোচনায়। হিট সিনেমা উপহার দেয়া এ অভিনেতার সম্পদও প্রচুর। তার মোট সম্পদের মূল্যমান বাংলাদেশী মুদ্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। তার আছে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, যুদ্ধবিমান ও আরো নানা শৌখিন সম্পত্তি।
টম ক্রুজের খরচের একটি বড় অংশ যায় যানবাহনে। তিনি তার যানবাহন রাখার জন্য একটি বিশেষ গ্যারেজই তৈরি করে ফেলেছেন। স্ল্যাশ গিয়ারের মতে এ গ্যারেজ তৈরিতেই ক্রুজ খরচ করেছেন কয়েক কোটি ডলার। সেখানে রেখেছেন দামি ও ভিন্টেজ গাড়ি। এর মধ্যে আছে ডজ কোল্ট, এক জোড়া পোর্শে, শেভ্রলে শিভেল এসএস সেভেন্টি, বিএমডব্লিউ, বিক রোডমাস্টার ফোর্টি নাইন, বুগাতি ভেরনসহ আরো বেশকিছু গাড়ি।
টপ গান মুক্তি পায় ১৯৮৬ সালে। এর আট বছর পর টম ক্রুজ পেশাদার পাইলটের লাইসেন্স পান। এর পর থেকেই উড়োজাহাজের প্রতি তার ভালোবাসা বাড়তে থাকে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি ফাইটার প্লেন কিনেছেন। ‘পি ফিফটিন মাসটাং’ নামের এ যুদ্ধবিমান তিনি ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ সিনেমায় নিজে চালিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে উড়োজাহাজটি কিনতে তাকে গুনতে হয়েছিল ৪০ লাখ ডলার। যুদ্ধবিমানটি মূলত ক্রুজের শখের ফাইটার প্লেন। এর বাইরেও তার আরেকটি উড়োজাহাজ আছে। ‘গালফস্ট্রিম ফোর’ মডেলের এ উড়োজাহাজে চড়ে তিনি বহু জায়গায় যাতায়াত করেন। উড়োজাহাজটি কেনার জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছিল ২ কোটি ডলার। দ্য সানের দেয়া তথ্য অনুসারে, এতে একটি ‘জ্যাকুজি’ (বিশেষ ধরনের সুইমিং পুল) ও আলাদা করে একটি স্ক্রিনিং রুম রয়েছে।
মোটর বাইকের প্রতিও আছে টম ক্রুজের প্রেম। মটোরিয়াসডটকমের মতে, ক্রুজের একটি বিএমডব্লিউ এস ১০০ আরআর, ভাইরাস ৯৮৭ সি৩ ভি৪, ডুকাটি ৯৯৯ আর ও কনফেডারেট হেলকাটসহ আরো কিছু মোটর বাইক রয়েছে। টম ক্রুজ নানা সময় এসব বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।
যার এত গাড়ি, বাইক থাকে। তার বাড়িও সে মাপেরই হবে। টম ক্রুজের একাধিক বাড়ি আছে। এর মধ্যে ওয়েস্ট সাসেক্সে আছে একটি। ১৪ একর জমির ওপর একটি বাড়ি করেছেন তিনি। ২০০৬ সালে তিনি ৪২ লাখ ডলার খরচ করে ডরম্যানস পার্কে বাড়িটি করেন। বাড়িটি মূল বাসভবন ও অতিথিদের অংশ নামে দুভাগে বিভক্ত। এর সঙ্গে আছে একটি বিশাল বাগান। এছাড়া ফ্লোরিডায় দোতলা পেন্টহাউজ আছে টম ক্রুজের। এটির মূল্য প্রায় ৯৬ লাখ ডলার। প্রাইভেট আউটডোর পুল, বিশেষ ব্যায়ামাগারসহ এ বাড়িতে রয়েছে নানা ব্যবস্থা।
কলোরাডো মাউন্টেন র্যাঞ্চে ক্রুজের একটি বাড়ি ছিল। পাহাড়ঘেরা চারতলা বাড়িটি নব্বইয়ের দশকে কিনেছিলেন তিনি, যা ২০২১ সালে প্রায় ৪ কোটি ডলারে বিক্রি করে দিয়েছেন। ২০০৫ সালে হলিউড হিলসে ১ কোটি ১৭ লাখ ডলারে ফরাসি কেতার একটি বাড়ি কিনেছেন ক্রুজ। এ বাড়ি থেকে সমগ্র লস অ্যাঞ্জেলেস দেখা যায়। বেভারলি হিলসেও ২০০৭ সালে একটি বাড়ি কিনেছিলেন। ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলারে কেনা এ বাড়ি তিনি ২০১৬ সালে ৪ কোটি ডলারে বিক্রি করে দিয়েছেন।
টম ক্রুজের দুর্বলতা আছে ইয়টে। মিশন ইম্পসিবলের শুটিং করার সময় ২০২১ সালে তিনি একটি সুপার ইয়ট ভাড়া করেছিলেন। বেশ কিছুদিন এ ইয়ট নিয়ে ঘুরেছেন। এছাড়া ক্রুজের ভালো লাগে দামি ঘড়ি। সবসময়ই তার হাতে দামি ঘড়ি দেখা যায়। এর মধ্যে আছে রোলেক্স ইয়টমাস্টার ৪২আরএলএক্স টাইটেনিয়াম, সান্তোস দ্য কার্টিয়ার, পোর্শে ডিজাইন ক্রনোগ্রাফ ওয়ান, প্যানেরাই লুমিনর জিএমটি, রোলেক্স ডায়টোনার মতো আরো কিছু ঘড়ি। এর মধ্যে রোলেক্স ডায়টোনার দামই প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ ডলার।
সূত্র: জিকিউ ম্যাগাজিন










