বিনোদন দুনিয়ায় নতুন মাইলফলক ওটিটি। ওটিটির মধ্যে জনপ্রিয়তম হলো নেটফ্লিক্স। তারা বিভিন্ন নিরীক্ষা করছে। কনটেন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ে নিরীক্ষা করে প্লাটফর্মটি। এর মধ্যে সম্প্রতি তারা থাইল্যান্ডে বড় বিনিয়োগ করেছিল। সম্প্রতি ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রভাব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এ প্লাটফর্ম।
২০২১-২৪ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের কনটেন্ট নির্মাণে ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে নেটফ্লিক্স। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ অর্থ বিনিয়োগের বিস্তারিত উঠে এসেছে। ব্যাংককের ৫১৫ ভিক্টরি ভেন্যুতে এক প্রেস ইভেন্টে এটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সংবাদকর্মী ও নেটফ্লিক্সের নির্বাহীরা।
নেটফ্লিক্স থাইল্যান্ডে কাজ শুরু করেছে বেশি দিন হয়নি। এর মধ্যে ২০১৯ সালে প্রথম থাই প্রডাকশন ‘দ্য স্ট্যান্ডার্ড’ মুক্তি পায়। এর ছয় বছরের মধ্যে ২০টি স্থানীয় সিনেমা ও সিরিজ প্রযোজনা করেছে। এর মাধ্যমে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি শিল্পী ও কলাকুশলীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়া পুরনো থাই কনটেন্টও অধিগ্রহণ ও লাইসেন্স করেও তাদের কনটেন্ট লাইব্রেরি সমৃদ্ধ করেছে নেটফ্লিক্স।
২০২৫ সালেও বেশকিছু কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে চায় নেটফ্লিক্স। অরিজিনাল নয়টি কনটেন্টের মধ্যে আছে ছয়টি সিনেমা। নেটফ্লিক্সের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কনটেন্ট প্রধান মালবিকা ব্যানার্জি বলেন, ‘আমরা স্থানীয় নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করছি এমন গল্প বলার জন্য, যা তারা অন্য কোথাও বলতে পারতেন না এবং যা থাই দর্শকের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।’
প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি প্যানেল আলোচনা হয়। এতে অংশ নেন নেটফ্লিক্সের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর রুবেন হাত্তারি, থাই লেখক-প্রযোজক প্রাবদা ইউন ও থাইল্যান্ডের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এজেন্সির (সিইএ) নির্বাহী পরিচালক চাকরিত পিচয়াংকুল।
হাত্তারি জানান, ১৫টির বেশি থাই অরিজিনাল কনটেন্ট নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল টপ ১০ নন-ইংলিশ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৪ সালেই থাই কনটেন্ট নেটফ্লিক্সে দেখা হয়েছে ৭৫০ মিলিয়নের বেশি ঘণ্টা। তিনি বলেন, ১৯০টির বেশি দেশে ৩০০ মিলিয়ন সদস্যের মাঝে বৈচিত্র্যময় কনটেন্টই সফলতার চাবিকাঠি।
ইউন জানান, হরর, কমেডি-ড্রামা ও বয়েজ লাভ থাই দর্শকের মধ্যে জনপ্রিয় ঘরানা। পিচয়াংকুল বলেন, ‘ব্যাংককের বাইরেও প্রতিভা উন্নয়নের জন্য নেটিফ্লিক্স ও সিইএ একত্রে কাজ করছে।’
নেটফ্লিক্সের প্রভাব থাইল্যান্ডের পর্যটনেও পড়েছে। যেমন ২০২৪ সালের সিরিজ ‘মাস্টার অব দ্য হাউজ’ চিত্রায়িত হয়েছে নাখন রাতচাসিমার শ্যাতু দে খোয়াইয়ে। ২০২৩ সালের চলচ্চিত্র ‘অ্যানালগ স্কোয়াড’ শুট হয়েছে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের পাহাড় ও সমুদ্রঘেরা ফাং এনগায়। ফলে কেবল কনটেন্ট নির্মাণ ও জনপ্রিয়তাই নয়, পর্যটনসহ থাইল্যান্ডের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও প্রভাব রেখেছে নেটফ্লিক্স।
সূত্র: ভ্যারাইটি










