বাংলাদেশী অভিনেত্রী সাদিয়া নাবিলা। উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। সেখান থেকেই ‘মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড ২০১৭’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম রানারআপ হন। ২০১৮ সালে বলিউড সিনেমা ‘ পেরেশান পারিন্দা’ দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু তার। আর মিশন এক্সট্রিম দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক। চলতি বছর ‘ব্ল্যাক ওয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক মহলে সাড়া ফেলেছেন এ অভিনেত্রী। ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সাদিয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
ব্ল্যাক ওয়ার সিনেমার প্রাপ্তি নিয়ে বলুন?
আমার যতটুকু প্রত্যাশা ছিল তার থেকেও বেশি পেয়েছি এ সিনেমা থেকে। অনেক ভালোবাসা পাচ্ছি দর্শকের কাছ থেকে। মিশন এক্সট্রিমে আমার চরিত্র ইরার ৬০ শতাংশ পরিচিতি ছিল। আমি জানতাম, এর পরবর্তী অংশ ব্ল্যাক ওয়ারে ইরার পুরো গল্প থাকবে এবং দর্শক তাকে আরো বেশি দেখবে। তাই আমার আলাদা ধরনের অপেক্ষা ছিল।
ইরা হয়ে ওঠার গল্পটা কেমন ছিল?
তবে শুরু থেকেই বলি। যখন মিশন এক্সট্রিম টিমের পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন আমি অস্ট্রেলিয়ায় ছিলাম। তখন আমার মাথায় চলছিল দেশে এত ভালো আর্টিস্ট আছেন, তার পরও আমার খোঁজ কেন করছেন। একটা ভার্চুয়াল অডিশনে তারা আমাকে ইরার জন্য নির্বাচন করেন। এরপর আমার মনে হলো, তারা যেহেতু দেশ থেকে বের হয়ে এ চরিত্রের জন্য আমার কাছে এসেছেন তাহলে আমার ভেতর সম্ভাবনা দেখেছেন। তাই আমার উচিত শতভাগ পরিশ্রম দিয়ে চরিত্রটা ফুটিয়ে তোলার। ইরাকে খুঁজতে আমি নির্মাতার সঙ্গে কথা বলি। খুঁটিনাটি বিস্তারিত বিষয় শুনে মনের মধ্যে ইরাকে তৈরি করেছিলাম। প্রত্যেকটি সিনের আগে আমি ভাবতাম, এ দৃশ্যে ইরা কীভাবে অ্যাকশন দেবে। আমি আসলে পুরো সিনেমায় অভিনয় করতে চাইনি, ইরাকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।
কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান?
গল্পের প্রতি আমার ইন্টারেস্ট বেশি। গল্প শোনার পর আমার মধ্যে একটা ক্লিক করে, গল্পের ওই চরিত্রের মাঝে নিজেকে দেখতে পাই কি পাই না। যদি গল্প শুনে ওই চরিত্রের সঙ্গে আমি যাই, এটা মনে হলে খুব বেশি সময় নিই না আমি কাজটা করব বলতে। আমি সব ধরনের চরিত্র করতে চাই, যাতে দর্শক আমাকে নানাভাবে দেখতে পারে।
বলিউডের নতুন কোনো সিনেমায় প্রস্তাব পাচ্ছেন?
বলিউডের সিনেমাটা করার পর অনেক প্রস্তাব পেয়েছি এবং ওই সময়ই আমি মিশন এক্সট্রিম ও ব্ল্যাক ওয়ারে অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। তাই আমার হাতে সময় ছিল না অন্য সিনেমায় অভিনয় করার। এরপর করোনা এল, দুই বছর তাই কোনো জায়গায় যেতে পারিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে। এখন যেহেতু পরিস্থিতি অনেকটাই ঠিক হচ্ছে, তাই ভাবছি পেছনে ফিরে যে কাজগুলো করার ইচ্ছা ছিল, যেগুলো এখনো করতে পারি ওগুলো করে দেখার। তার পরও এখন যেহেতু ব্ল্যাক ওয়ারে এত ভালো সাড়া পেলাম বাংলাদেশে, তাই আমার ইচ্ছা এখন বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিতেই বেশি সময় দেয়ার।
বাংলাদেশের সিনেমায় কি তবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন?
অনেকেই এখন আমার সঙ্গে কথা বলছেন। আমি নাম উল্লেখ করতে চাই না। বেশ কয়েকজন আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। এখন আমি ভাবছি, আমি কোন কাজটা করতে চাই। আমার চিন্তা হচ্ছে, আমার কাছে পাঁচটা সিনেমার প্রস্তাব এলে সবগুলো হ্যাঁ বলে দেয়ার মানে এই না, আমি অনেক বড় অভিনেত্রী কিংবা দর্শকের ভালোবাসা পেলাম। আমার মতে বুঝে কাজ করা দরকার, যাতে দর্শক আমার সঙ্গে আমার চরিত্রটি আরো মিলিয়ে ভালোবাসতে পারে। সেটা যদি বছরে একটা কাজও হয় আমার কোনো আপত্তি নেই। এটা মূলত দর্শকের জন্যই। এ জন্য একটু সময় নেয়া। আমি কোনো কাজে চুক্তিবদ্ধ হলে সেটা অবশ্যই জানিয়ে দেব।
রুপালি দুনিয়ায় পা রাখার গল্পটা কেমন?
ছোট থেকেই আমি বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। নাচ,গান, অভিনয় আবৃত্তি এগুলোই ছিল আমার জীবনের একটা অংশ। আমি ছোট থেকেই নায়িকা হতে চাইতাম। এটা আমার বাবা-মা জানত। আমি মাকে টিভি দেখিয়ে বলতাম একদিন আমাকেও দেখবা। কিন্তু সিনেমায় আসাটা হুট করেই হয়ে গেছে। কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমি একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি, যেখানে ফার্স্ট রানার আপ হই। ওই সময় কিছু নিউজ হয়। এরই একটা নিউজ থেকে বলিউডের একটা প্রতিষ্ঠান আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের সিনেমার লিড রোলের জন্য। অনেক মজার বিষয় হলো, আমার জীবনের প্রথম সিনেমার প্রস্তাব আমার নিউজ থেকে আমাকে খুঁজে বের করে দিয়েছে। এরপর মিশন এক্সট্রিম, তারাও আমাকে খুঁজে নিয়েছে। আমার রুপালি পর্দায় আসাটা বলা যায় অনেকটা আশীর্বাদ।
অস্ট্রেলিয়ায় মডেলিংয়ে যুক্ত আছেন। ভবিষ্যতে কি হলিউড কিংবা অস্ট্রেলিয়ান সিনেমায় আপনাকে দেখা যাবে?
ইনশাআল্লাহ, কেন নয়। আমি কখনো নিজেকে রেস্ট্রিক্ট করি না, আমি এ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে চাই। আমার সৌভাগ্য যে আমি বাংলাদেশের মেয়ে, আমি এখন অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও কাজ শুরু করেছি বলিউড দিয়ে। বলিউড, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া এ তিন ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভবিষ্যতে আমার ইচ্ছা সব ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে শেখার। আমি খালি শিখতে চাই।










