সাহিত্য থেকে সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে অন্যতম জনপ্রিয় কনটেন্ট সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা। সত্যজিৎ নিজে ফেলুদার গল্প থেকে সিনেমা নির্মাণ করেছেন। এরপর নির্মাণ করেছেন তার ছেলে সন্দীপ রায়। ওটিটিতেও নির্মিত হয়েছে ফেলুদা। নানা সময়ে বদলেছে ফেলুদা চরিত্রের অভিনেতা। বদলেছে গল্প বলার ধরনও। তবে এ নিয়ে দর্শক, নির্মাতা ও অভিনেতাদের মধ্যে দ্বিমত আছে যে ফেলুদার সিনেমা আসলে কেমন হওয়া উচিত। সম্প্রতি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে ফেলুদার লুকে একটি পোস্টারে দেখার পর দর্শকরা এ নিয়ে ব্যঙ্গ করছেন। অন্যদিকে, সন্দীপ রায় নিয়ে আসছেন ‘‌হত্যাপুরী’। সে সিনেমায় অভিনয় করছেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। এর আগে কিরীটি রায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় ও ফেলুদার সিনেমা নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন ইন্দ্রনীল। সন্দীপ রায়ের এ সিনেমায় জটায়ু ও তোপসের চরিত্র নিয়েও দর্শকের আপত্তি প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এ সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রনীল বলেন, ‘‌একটু উদ্বিগ্ন বলতে পারেন। তবে টেনশন ঠিক হচ্ছে না। আমি আসলে কখনই অনেক আগে থেকে খুব বেশি ভেবে ফেলি না। দেখা যাক না, কী হয়! নিশ্চয়ই চাইব, ছবিটা ভালো চলুক, আমায় বা জটায়ু-তোপসেকে দর্শক মেনে নিন।’ তিনি বলেছেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও সব্যসাচী চক্রবর্তীকে দেখে নিজেকে তৈরি করেছেন। তারাই ইন্দ্রনীলের প্রিয় ফেলুদা।

হত্যাপুরী খুব সাদামাটাভাবে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দ্রনীল। ফেলুদাকে লার্জার দ্যান লাইফ দেখানো হয়নি। কিন্তু আজকের দিনে এসে প্রযুক্তি এবং নানাভাবে সিনেমা ও চরিত্রকে বিশেষায়িত করার সময় এমন সিনেমা চলবে কিনা জানতে চাওয়া হয়। ইন্দ্রনীল বলেন, ‘‌দর্শক গাই রিচির শার্লকও দেখছেন, আবার কাম্বারব্যাচেরও (বেনেডিক্ট) দেখছেন। বাঙালি যদি সেগুলো দেখতে চায়, তাহলে তো ওটিটিতেই দেখবে। কিন্তু হলে গিয়ে ফেলুদা যখন দেখবে, তখন তো জেমস বন্ডের মতো ফেলুদা দেখতে চাইবে না। বরং সহজ ছিমছাম ফেলুদা দেখতেই যাবে। অনেকে অবশ্য ভাবতে পারেন, এই লিনিয়ার ন্যারেটিভ খুবই পুরনো হয়ে গিয়েছে, কিন্তু সেটাই তো বিশেষত্ব। বাবুদা বিশ্বাস করেন, সত্যজিৎ রায় যেমন লিখেছিলেন, তেমনই ছবি তৈরি করা উচিত।’

সন্দীপ রায় পরিচালিত সিনেমাটি পুরীতে শুট করা হয়েছে। এটি মুক্তি পাবে ২৩ ডিসেম্বর।


সূত্র: আনন্দবাজার