দক্ষিণ কোরিয়ায় চলমান বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট এশিয়ান টিভি সিরিজ’ পুরস্কার পেয়েছে নেটফ্লিক্সের ক্রাইম ড্রামা সিরিজ ‘স্কুপ’। আর এ সিরিজে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী কারিশমা তান্না। মজার ব্যাপার হলো, স্কুপের শুটিং চলাকালীন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি একই সঙ্গে বিয়ে ও সংলাপ বলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমার সংলাপগুলো অনেক ভারী ও তথ্যবহুল ছিল’। বিয়ের অনুষ্ঠানের পরপরই তাকে জেলখানার দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছিল। এ কারণে নববধূর সাজ ছেড়ে তাকে একেবারেই সাদামাটা বেশে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়েছিল। অভিনয়ের খাতিরে ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে আপস করেছিলেন তিনি। এ পুরস্কার যেন তার সে ত্যাগেরই স্বীকৃতি।
ভারতীয় সাংবাদিক জিগনা ভোরার স্মৃতিকথা ‘বিহাইন্ড বারস ইন বাইকুল্লা: মাই ডেইজ ইন প্রিজন’ নিয়ে তৈরি হয়েছে টিভি সিরিজ স্কুপ। খ্যাতিমান নির্মাতা হানসাল মেহতার পরিচালনায় এ সিরিজ গত জুন থেকে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং শুরু হয়েছিল। ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়া সিরিজটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন কারিশমা তান্না। সিরিজে তার চরিত্রের নাম জাগ্রুতি পাঠক। একজন সাংবাদিক। পুলিশ, আন্ডারওয়ার্ল্ড ও মিডিয়ার ঘেরাটোপে আক্রান্ত যার জীবন। নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে ভ্যারাইটিকে তান্না বলেন, ‘এ চরিত্র যেন আমাকে ভেবেই তৈরি করা হয়েছে। এটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো একটি চরিত্র’। আর পরিচালক হানসাল মেহতা এ অভিনেত্রীর মধ্যে দেখেছেন বিশেষ প্রতিভা। তিনি একে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পরিচালক তার ওপর ভরসা রেখেছিলেন। তিনিও নিরাশ করেননি। নিজের অভিনয় প্রতিভার সবটুকু দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন চরিত্রটি। তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ সিরিজ জাগ্রুতি পাঠক চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। পরিচালক আমার মধ্যে অনেক বেশি সম্ভাবনা দেখেছিলেন। আমি দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করেছি।’ চরিত্রটিতে অভিনয় করার সময় সাংবাদিক জিগনা ভোরার ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। এ জ্ঞান তাকে চরিত্রের গভীরে যেতে সাহায্য করেছে। এ অভিনেত্রী বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমি চ্যালেঞ্জ নিতে ও জটিল চরিত্রে অভিনয় করতে পছন্দ করি।’
২০০১ সালে একতা কাপুরের পরিচালনায় জনপ্রিয় একটি টিভি সিরিজের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে কারিশমা তান্নার। প্রাইম ভিডিওতে সম্প্রচারিত সিরিজ ‘হুস হুস’ ও জি ফাইভের ‘লাহোর কনফিডেন্সিয়াল’ সিরিজ দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তবে নিজের সব কাজের মধ্যে স্কুপকেই এগিয়ে রেখেছেন এ অভিনেত্রী। নেটফ্লিক্সের এ সিরিজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এত বছরের ক্যারিয়ারে এটিই আমার সবচেয়ে সেরা কাজ’।
জাগ্রুতি পাঠক চরিত্রে স্বাধীনভাবে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন কারিশমা তান্না। পরিচালক তার ওপর কিছু চাপিয়ে দেননি। তাই চরিত্রটিতে প্রাণ খুলে অভিনয় করতে পেরেছেন বলে জানান এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘পরিচালক আমাকে কোনো সীমারেখা টেনে দেননি।’ তান্নার মতে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ভ্যারাইটি










