শাকিব খান অভিনীত প্যান ইন্ডিয়ান চলচ্চিত্র ‘দরদ’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১৫ নভেম্বর। সিনেমাটির নির্মাতা অনন্য মামুন। ২০১০ সালের ‘ওয়ান্টেড’ সিনেমা দিয়ে পরিচালনায় তার যাত্রা শুরু। তারপর ২০১৪ সালে ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ পরিচালনা করেন, যা ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম সহপ্রযোজনা চলচ্চিত্র। দীর্ঘদিন পর আবারো দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে বানালেন ‘দরদ’। এ সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন নির্মাতা অনন্য মামুন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. অহিদুর রহমান
আমরা জানি ১৫ নভেম্বর আপনার নির্মিত সিনেমা দরদ মু্ক্তি পাবে। আপনার অনুভূতি কী?
দেখেন যেকোনো সিনেমার মুক্তি সব পরিচালকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। এটা একটা উত্তেজনা ও গর্বের বিষয়। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। তাই আমার মধ্যেও এ জিনিসগুলো কাজ করছে।
দরদের মুক্তি খুব কাছাকাছি, গানগুলো কবে ও কোথায় মুক্তি পাবে?
দরদের গানগুলো টি সিরিজ থেকে আসবে এবং খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবে। নির্দিষ্ট তারিখ বলতে চাই না।
দরদের কাটআউট বিলবোর্ড নিয়ে একটা বিতর্ক দেখা গেছে। বিষয়টা যদি পরিষ্কার করতেন।
এটা আসলে কোনো বিতর্কের বিষয় ছিল না। আমরা কাটআউটই করতে চাচ্ছিলাম, যেহেতু পেছনে গ্লাস ছিল, তাই কাটা যায়নি। এজন্যই ভুল বোঝাবুঝিটা হয়েছে। এটাই, আর কিছু নয়।
বাংলাদেশী নায়ক ও বলিউডের নায়িকা দিয়ে দরদ বানিয়েছেন, কতটা চ্যালেঞ্জ ছিল?
প্রত্যেকটা সিনেমায়ই একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় থাকে। দরদ সিনেমাটি নির্মাণ আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নয়। আমি এর আগেও বাইরের নায়িকা নিয়ে সিনেমা বানিয়েছি, এটা আমার জন্য বড় কিছু নয়। কোনো চ্যালেঞ্জ মনে হয়নি। আমার জন্য কাজটা করা খুব সহজ ছিল।
দরদে সোনাল চৌহানকে নায়িকা হিসেবে নেয়ার কারণ কী?
এটা একটা মার্কেটিং পলিসির অংশ আরকি। যেহেতু আমরা সিনেমাটি ভারতসহ সারা বিশ্বে রিলিজ করব, এজন্য মার্কেটিং পলিসি থেকে কাজটা করা।
সোনাল চৌহানকে কীভাবে পেলেন?
যেতেতু আমি আগে ইন্ডিয়ান নায়িকা নিয়ে কাজ করেছি, তাই এর অভিজ্ঞতা ছিল আমার। আমরা যখন ঠিক করি একজন আর্টিস্ট ভারত থেকে নেব, তখন এজেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করে তারপর নিই।
অনেক সিনেমা নির্মাতার বিরুদ্ধে কপি সিনেমার অভিযোগ আসতে দেখা যায়। দরদ নিয়ে এ ব্যাপারে কী বলবেন?
দরদে এমন কিছু থাকবে না। এটা নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন। দরদ একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্পের সিনেমা।
একজন শাকিব খানকে নিয়েই কেন সবার টানাটানি? নায়কের অভাব, নাকি অন্যকিছু?
আসলে আমাদের এখানে প্রডাকশন হাউজের অভাব। প্রডাকশন হাউজ নেই। এটি থাকলে হয়তো অনেক আর্টিস্ট দেখতে পেতেন। যেহেতু ব্যক্তিনির্ভর সব হাউজ, তাই সবাই নিজের লাভটাই আশা করে। তাছাড়া শাকিব খানকে নিলে বেনিফিট বেশি পাওয়া যায়। মার্কেটে তার সিনেমার একটা সিকিউরিটি আছে, সে জায়গা থেকে সবাই তাকে নিয়েই কাজ করতে চায়।
আপনার পরবর্তী মিশন কী?
এখন দরদের মধ্যেই ডুবে আছি। আপাতত এটির বাইরে কিছু চিন্তা করছি না। সিনেমাটা রিলিজ হোক, তারপর জানাব।
দরদের দর্শকের জন্য কী বলবেন?
দর্শকের জন্য একটাই মেসেজ, এই কঠিন সময়ে আমরা দর্শককে বিনোদন দেয়ার জন্যই দরদ রিলিজ করছি। আপনারা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখুন এবং বাংলা সিনেমার পাশে থাকুন।
গত সরকার পরিবর্তনের পর সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আপনি আর কী পরিবর্তন চান?
আমি চাই বেশি বেশি মাল্টিপ্লেক্স হোক। সিনেমা দেখার পরিবেশ সুন্দর হোক, জায়গা বাড়ুক। তাহলেই সিনেমার উন্নতি হবে।










