৪০ বছর আগে, ১৯৮২ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়েছিল ‘ডিস্কো ড্যান্সার’। সিনেমাটির মুক্তির তারিখ নিয়ে বিতর্ক আছে, ভারতীয় গণমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা জানাচ্ছে তারিখটি ১০ কিংবা ১৭ ডিসেম্বর। এ সিনেমা মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস লিখিত হয় নতুনভাবে। ডিস্কো ড্যান্সারের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন সব্যসাচী অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। জাতীয় সেনসেশন হয়ে ওঠার পাশাপাশি বিশ্বের অনেক দেশে তারকাখ্যাতি লাভ করেন বাঙালি এ অভিনেতা। বক্স অফিসে সিনেমাটি হয়েছিল ব্লকবাস্টার হিট। সম্প্রতি ড্যান্স মিউজিক্যাল ঘরানার সিনেমাটি ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন করল। এ উপলক্ষে এর কিছু অজানা তথ্য জেনে নেয়া যাক।

মিঠুনের সময় তখন ভালো যাচ্ছিল না। ক্যারিয়ারের অবস্থা নিয়ে তিনি ছিলেন যারপরনাই হতাশ। এ রকম একটা সময়ে ডিস্কো ড্যান্সারের প্রস্তাব নিয়ে তার কাছে আসেন পরিচালক বাব্বর সুভাষ, যিনি বি সুভাষ নামে সাধারণত পরিচিত। তিনি মিঠুনকে নিশ্চয়তা দেন, সিনেমাটি তাকে সুপারস্টারের তকমা এনে দেবে। সুভাষের ভবিষ্যদ্বাণী যে সত্য হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। সুভাষ বলেন, ‘‌সারা ভারতের আগ্রহী পরিবেশকরা সিনেমাটি তখনই কিনে নিতে চেয়েছিল।’ আর এভাবেই ইন্ডিয়ায় শুরু হলো ডিস্কো ড্যান্সারের ঢেউ।

এ সিনেমার ‘জিমি জিমি’ গানটি এখনো সংগীতপ্রেমী মানুষের মুখে মুখে। গানের সংগীত পরিচালক ছিলেন বাপ্পী লাহিড়ি। তবে গানটি রেকর্ডের পর পরিচালক শুনে মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি বাপ্পী লাহিড়িকে বলেছিলেন, সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে গানটি খাপ খাচ্ছে না। বাপ্পী তখন ‘ডাবল ভয়েস’ ব্যবহার করেন। ফলাফল হলো অভূতপূর্ব। ‘‌এর ফলাফল আমাদের হাওয়ায় ভাসাল’, বি সুভাষ এভাবেই তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।

আধুনিক হিন্দি গানের দুনিয়ায় ডিস্কো ড্যান্সারের ‘ইয়াদ আ রাহা হ্যায় তেরা পেয়ার’ গানটি একটি মাইলফলক। বাপ্পী লাহিড়ি ছাড়া অন্য কারো কণ্ঠে কল্পনাই করা যায় না। মজার ব্যাপার হলো গানটিতে কণ্ঠ দেয়ার কথা ছিল কিশোর কুমারের। তবে স্টুডিও যে ভবনে অবস্থিত, সেখানকার এলিভেটর নষ্ট ছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা তার জন্য নিষিদ্ধ ছিল। তাই তার অনুমতিক্রমে গানটিতে বাপ্পী লাহিড়ি কণ্ঠ দেন। 

ডিস্কো ড্যান্সার সিনেমায় প্রথমবারের মতো অতিথি চরিত্রে হাজির হন রাজেশ খান্না। এজন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি।

ভারতে ডিস্কো ড্যান্সার প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করে। সে সময়ের জন্য তা ছিল বড় একটি রেকর্ড। ১৯৮৩ সালে মুম্বাইভিত্তিক এজেন্সি সোভেক্স ফোর্ট মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটি প্রদর্শনের জন্য সুভাষকে আমন্ত্রণ জানায়। সোভিয়েত ইউনিয়নে সিনেমাটির ১ কোটি ২০ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছিল। ফোর্বসের মতে, সোভিয়েত রাশিয়ায় এটি মোট ৯০ কোটি রুপির ব্যবসা করেছিল। চীনেও দারুণ ব্যবসা করে সিনেমাটি। ফলে প্রথম ভারতীয় সিনেমা হিসেবে ১০০ কোটি রুপির মাইলফলক অর্জন করে ডিস্কো ড্যান্সার।


সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা। ছবি: আইএমডিবি