অ্যানিমেল নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করলেন জাভেদ আখতার। তিনি দর্শককে আরো বিচক্ষণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যানিমেলের সাফল্যকে বলেছেন বিপজ্জনক। কারণ এ সিনেমায় ছিল নারীর প্রতি অবমাননা ও সহিংসতা। এমন সিনেমার সাফল্য উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিষয় বলে মনে করেন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় কবি, গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার। তার মতে, সিনেমায় এ ধরনের বার্তা থাকা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

সিনেমাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাভেদ আখতার বলেন, ‘একজন পুরুষ নারীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করছে, এমন কিছু সিনেমায় দেখানো আমাদের সমাজের জন্য ক্ষতিকর।’ কিন্তু বিপরীতে একটি প্রশ্ন আসে। জাভেদ আখতার নিজে এমন অনেক সিনেমার চিত্রনাট্যকার, যেখানে পুরুষ চরিত্রগুলো সহিংসতা করে। অমিতাভ বচ্চনেরই অনেক সিনেমা এমন আছে। সেক্ষেত্রে অবশ্য চরিত্রদের দেখা যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সহিংসতা করতে। জাভেদ বলেন, ‘একজন নায়কের ইমেজ তৈরি করার ক্ষেত্রে চিত্রনাট্যকারকে সতর্ক হতে হবে। ঠিক ভুলের সীমারেখা দেখানোও প্রয়োজন। এসব নিয়ে আজকের লেখকদের ভাবতে হবে, কারণ তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি বেড়েছে।’

এ প্রসঙ্গে আসে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘চোলি কে পিছে কেয়া হ্যায়’-এর কথা। গানের কথা নিয়ে অনেকের সমালোচনা আছে। এ নিয়ে জাভেদ আখতার বলেন, ‘গানের কথায় যা আছে তা খুব বেশি সমস্যার না। সমস্যা হলো এর জনপ্রিয়তা নিয়ে। মানুষ ভেবে দেখে না গানে আসলে কী বলা হচ্ছে। এর ফল কী হবে! লেখার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত এবং গ্রহণ করার ক্ষেত্রে দর্শক-শ্রোতাদেরও সতর্ক হতে হবে যে তারা কী গ্রহণ করছেন।’

ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অজন্তা-ইলোরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বক্তৃতা করতে গিয়ে জাভেদ আখতার এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি বর্তমানে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চেয়ে দর্শকের দায়িত্ব বেশি। দর্শককেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কোন সিনেমা পছন্দ করবে এবং কোনটি পছন্দ করবে না। কোনটি প্রত্যাখ্যান করবে তা সম্পূর্ণরূপে দর্শকের ওপর নির্ভর করে। এ ক্ষমতা বর্তমানে দর্শকের কাছে রয়েছে।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস