বহুদিন পর মেতে উঠেছে হলিউড। গ্রেটা গেরউইগের ‘‌বারবি’ ও ক্রিস্টোফার নোলানের ‘‌ওপেনহাইমার’ মুক্তি পেয়েছে একই দিনে। ২১ জুলাই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে সিনেমা দুটি। আর দুটো সিনেমা নিয়েই চলছে নানা আলাপ। সত্যিকার অর্থেই বহুদিন পর এতটা আলোচনা হচ্ছে হলিউডের কোনো সপ্তাহের সিনেমা নিয়ে। বিশেষত কভিড-পরবর্তী সময়ে এ রকম ‘‌হাইপ’ তৈরি হয়নি কোনো সিনেমা নিয়ে। নোলানের ওপেনহাইমার নিয়ে অনেক আগে থেকেই আলোচনা ছিল। সিনেমাটি অনেক দর্শকেরই ভালো লাগবে সে কথা সবারই জানা, কিন্তু গ্রেটা গেরউইগের বারবি এ সময়ে এসে এতটা আলোচিত হবে তা ভাবেনি কেউ। কিন্তু বারবির কনসেপ্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনার ফলে সিনেমাটি নোলানের ওপেনহাইমারের পাশেই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আর পুরো বিষয়টির নাম দেয়া হয়েছে ‘বারবিহাইমার’।

‌বারবি প্রিভিউ থেকে আয় করেছে ২ কোটি ২২ লাখ ডলার। প্রিভিউয়ে এত বড় অংক সাম্প্রতিক কোনো সিনেমা আয় করেনি। সিনেমাটি শুক্রবার মুক্তি পেয়ে প্রথম দিনে উত্তর আমেরিকায় আয় করেছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ডলার। সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ৪ হাজার ২৪৩টি স্ক্রিনে। সে হিসেবে প্রথম দিনে সিনেমাটি আয় করেছে ৭ কোটি ডলারেরও বেশি। জুনে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা ‘‌স্পাইডার-ম্যান: অ্যাক্রস দ্য স্পাইডার-ভার্স’ প্রথম দিনে আয় করেছিল ৫ কোটি ডলার। বারবি যেভাবে দর্শক পছন্দের তালিকায় থাকছে তাতে মনে হচ্ছে প্রথম তিনদিনে সহজেই ১০ কোটি ডলার আয় ছাড়িয়ে যাবে। অতিমারীর পর খুব বেশি সিনেমার পক্ষে তা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘‌ওপেনহাইমার’ প্রিভিউ স্ক্রিনিং থেকে আয় করেছে ১ কোটি ডলারের বেশি। প্রথম দিন সিনেমাটি আয় করেছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এর মোট আয় সাড়ে ৪ কোটি ডলারের বেশি। প্রথম দিনের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, নোলানের সিনেমার তুলনায় এগিয়ে থাকছে বারবি। তবে এর দুটি কারণ আছে। ওপেনহাইমার মুক্তি পেয়েছে ৩ হাজার ৬১০টি স্ক্রিনে। ফলে বারবির তুলনায় পিছিয়ে থাকছে সিনেমাটি। দ্বিতীয় কারণটি হলো বারবি যতটা সাধারণ মানুষের সিনেমা, ওপেনহাইমার ততটা নয়। তবে ডেডলাইনের দেয়া তথ্য অনুসারে টিকিট বিক্রির পরিমাণ থেকে ধারণা করা যায়, সিনেমাটি প্রথম তিন দিনে আয় করবে সাড়ে ৭ কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ বারবির সমান।

বারবি ও ওপেনহাইমার মিলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আমেরিকার বক্স অফিসকে দিচ্ছে প্রায় ১৫ কোটি ডলার। এটি কেবল আমেরিকার বক্স অফিসের হিসাব। সিনেমা দুটি আমেরিকার বাইরেও মুক্তি পেয়েছে এবং সেখানেও আছে দুটি সিনেমারই বহু ভক্ত। ফলে আমেরিকার বাইরে থেকেও প্রচুর আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিনেমা দুটি নিয়ে এমনকি আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশেও।

সূত্র: ভ্যারাইটি