মৃত্যু নাকি সবকিছু শেষ করে দেয়। কিন্তু সবার জন্য কথাটি ঠিক সত্য নয়। বিশেষ করে এমন অনেক তারকা আছেন, মৃত্যুর পরও যাদের আয়ের খাতা বন্ধ হয়নি। এ বিষয়ে ফোর্বস ম্যাগাজিন সম্প্রতি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, মৃত তারকারা প্রতি বছর অর্থ উপার্জন করে চলেছেন। বিলিয়ন ডলার আয় করছেন তারা। অধিকাংশ তারকা, বিশেষ করে অভিনেতা, গায়ক, লেখক, চিত্রকর মৃত্যুর পরও তাদের কাজের রয়্যালটি পেতে থাকেন। ফলে তাদের আয় জমা হতে থাকে। ঠিক এমন তালিকায় বিস্ময় নিয়ে সামনে এসেছে মাইকেল জ্যাকসনের নাম।
আশি ও নব্বইয়ের দশকের পপ সংগীতে মাইকেল জ্যাকসন ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় নামগুলোর একটি। যদিও জীবনের শেষ দিকে গিয়ে বিতর্ক তার জন্য অনেকটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। ২০০৯ সালে তার আকস্মিক মৃত্যুর পর থেমে যায় সবকিছু। তবে মাইকেল জ্যাকসন বিভিন্ন মাত্রার রয়্যালটির ওপর ভিত্তি করে এখন পর্যন্ত অর্থ উপার্জন করে চলেছেন । ফোর্বস সম্প্রতি ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি আয় করা মৃত তারকাদের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, ২০২৩ সালে মাইকেল জ্যাকসন ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন। ১০ কোটি ডলার আয় নিয়ে পেছনে রয়েছেন এলভিস প্রিসলি। মাইকেল জ্যাকসনের এ আয় তার মৃত্যুর পর কেবল বেড়েই চলেছে।
২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর পর ১৫ বছর ধরেই তার আয় হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবেই তিনি ২০০৯ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে মৃত তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করা তারকা। তালিকায় অনেকের নামই আছে, তবে ফোর্বসের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরের মধ্যে মাইকেল জ্যাকসন ২৭০ কোটি ডলার আয় করেছেন। তার মধ্যে কেবল ২০১৬ সালেই আয় হয়েছে ৮২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থটা এসেছে মূলত সে বছর সনি ও এটিভির কাছে তার অর্ধেক মিউজিক পাবলিশিং ক্যাটালগ বিক্রির মাধ্যমে।
মাইকেল জ্যাকসন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৮ সালে। তিনি খ্যাতি অর্জন করেন জ্যাকসন ফাইভ নামের সংগীত দলের অংশ হিসেবে। মূলত জ্যাকসন পরিবারের পাঁচ সদস্য মিলে চালু করা হয়েছিল এ ব্যান্ড। ১৯৭১ সালে তিনি একক সংগীত পরিবেশনে নামেন। তবে তার আবির্ভাব ঘটে মূলত ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া থ্রিলার অ্যালবামের জন্য। গানের তালে তালে মাইকেলের নাচের কৌশলগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এলভিস প্রিসলি পপসংগীতের সম্রাট হওয়া সত্ত্বেও মাইকেল জ্যাকসনকেই শ্রোতারা গুরু ডাকতে শুরু করে। ‘থ্রিলার’ অ্যালবামটি সারা বিশ্বে বেস্ট সেলিং অ্যালবাম হিসেবেই ইতিহাস গড়ে। বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রীত রেকর্ডের মধ্যে মাইকেলের গাওয়া পাঁচটি সংগীত অ্যালবাম রয়েছে। সেগুলো হলো ‘অব দ্য ওয়াল’ (১৯৭৯), ‘থ্রিলার’ (১৯৮২), ‘ব্যাড’ (১৯৮৭), ‘ডেঞ্জারাস’ (১৯৯১) ও ‘হিস্ট্রি’ (১৯৯৫)। অবশ্য আমৃত্যু তিনি শিশু হেনস্থার অভিযোগ বয়ে বেরিয়েছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










