বছরের প্রথম দিনেই চমক দিয়েছে নেটফ্লিক্স। নিরীক্ষাধর্মী একটি সিরিজ দিয়ে শুরু করেছে স্ট্রিমিং প্লাটফর্মটি। মুক্তির পর পরই ক্যালাইডোস্কোপ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এমন একটি বৈশিষ্ট্য আছে এ সিরিজে, যা আগে দেখা তো দূর, শোনাও যায়নি। এরিক গার্সিয়া নির্মিত আট পর্বের এ সিরিজের এপিসোডগুলো বিশেষভাবে সাজানো। চাইলে এক থেকে শুরু করে ক্রমানুসারে দেখা যাবে, আবার ক্রম ভেঙে নিজের ইচ্ছামতোও দেখা যাবে। এতে গল্প বুঝতে কোনো সমস্যা হবে না, বরং প্রতি বার ক্লাইম্যাক্সে আসবে নতুন স্বাদ।
ক্যালাইডোস্কোপের গল্পটা সাধারণ। বুদ্ধি ব্যবহার করে ডাকাতি করার এ ধরনের গল্প আগেও দেখেছে দর্শক। তবে এবারের পার্থক্য হলো গল্প বলার ধরনটিতে। আট এপিসোডে ২৫ বছর সময়কালের গল্প বলা হয়েছে, তবে তা দেখতে ক্রম অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। দর্শক চাইলে দ্বিতীয় পর্বের পর তৃতীয় পর্ব দেখতে পারেন। এভাবে ১ম, ৩য়, ৫ম, ৭ম এপিসোডের পর ২য়, ৪র্থ, ৬ষ্ঠ ও ৮ম এপিসোড দেখা যায়। কেবল এভাবেই নয়, আরো নানাভাবে দেখা সম্ভব। নির্মাতা ও আগ্রহীরা হিসাব করে দেখেছেন আট পর্বের এ সিরিজ ৫০৪০টি ভিন্ন কম্বিনেশনে দেখা সম্ভব। গণিতে পারমুটেশন-কম্বিনেশন যারা করেছেন, তাদের কাছে বিষয়টি সহজবোধ্য হবে। ৫০৪০টি ভিন্ন কম্বিনেশনে এ সিরিজ দেখার ক্ষেত্রে প্রতিবার ক্লাইম্যাক্সেও লক্ষিত হবে ভিন্নতা। নির্মাতারা বলছেন, সিরিজের মূল আকর্ষণ এর শেষ পর্বে। যে কম্বিনেশনেই দেখা হোক না কেন, শেষ পর্বটি দর্শককে এর মূল গল্প ও বক্তব্য বুঝতে সাহায্য করবে।
ক্যালাইডোস্কোপের কিছু সমস্যাও পেয়েছেন দর্শকরা। সিরিজটি অসাম্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে এর গতিপথ মসৃণ নয়। এছাড়া ভিন্ন স্বাদ দেয়ার চেষ্টার কারণে গল্পটি গড়পড়তা হয়ে গেছে বলে মনে করছেন তারা। তবে অভিনয় বা পারফরম্যান্স নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ নেই দর্শকের।
অন্যান্য সিরিজের তুলনায় ক্যালাইডোস্কোপ অবশ্যই এগিয়ে থাকবে এর নীরিক্ষার কারণে। কেননা ২০২০ সালেও একবার এ ধারার একটি কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্যারামাউন্ট প্লাস এনেছিল গোয়েন্দা গল্পভিত্তিক সিরিজ ‘ইন্টারোগেশন’। সেটির ক্ষেত্রেও বলা হয়েছিল, ক্রম অনুসরণ না করেই দেখা যাবে পর্বগুলো। কিন্তু সিরিজটি ততটা দর্শক টানতে পারেনি। এবার ক্যালাইডোস্কোপ যেভাবে শুরু করেছে, তাতে মনে হচ্ছে ভালোই দর্শক টানতে পারবে। কেননা, গল্প বলার ধরনটি পছন্দ করেছে দর্শক। প্রতিটি পর্ব একটি করে রঙ দিয়ে করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট রঙের সঙ্গে পর্বের গল্পের যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে সঠিকভাবে। সেদিক থেকে সিরিজের এপিসোডগুলো আগ্রহ তৈরির পাশাপাশি ধরে রাখতে পারছে। ভালো-মন্দের বাইরে ক্যালাইডোস্কোপের প্রাসঙ্গিকতা হচ্ছে, এ সিরিজের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে গল্প বলা ও নির্মাণের নতুন ধারা।
সূত্র: দ্য ভার্জ










