অ্যানিমেশন দুনিয়ার জীবন্ত কিংবদন্তি পরিচালক হায়া মিয়াজাকি তার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৪ জুলাই জাপানে মুক্তি পেয়েছে তার শেষ অ্যানিমেশন সিনেমা দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হিরন। শেষ সিনেমার মুক্তি নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বেগে ছিলেন। কিংবদন্তি এ পরিচালকের উদ্বেগের পেছনে আছে স্টুডিও জিবলির একটি ভিন্ন ও কিছুটা অদ্ভুত সিদ্ধান্ত। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিজেদের কোনো সিনেমার জন্য তারা কোনো প্রচারণা চালাবে না। কোনো ট্রেলার নয়, টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন নয়, এমনকি সিনেমার প্লট বা অভিনয়শিল্পীদের নামও জানানো হবে না। আর এ বিষয়ই মিয়াজাকিকে উদ্বেগে ফেলেছিল। জিবলির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট তোশিও সুজুকি সপ্তাহ দুয়েক আগে টোকিওতে এক অনুষ্ঠানে মিয়াজাকির এমন উদ্বেগের কথা জানান। সেখানে মিয়াজাকি বলেন, ‘‌‍আমি আপনার বিচক্ষণতার ওপর আস্থা রাখি মি. সুজুকি। কিন্তু তার পরও বলি, আমি উদ্বিগ্ন...।’

সুজুকি তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, ‘‌‍আমার মতে, তথ্যে ভারাক্রান্ত হওয়ার এ যুগে তথ্যের অভাবই বিনোদন। আমি জানি না এটা কাজ করবে কিনা। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এ দর্শনে বিশ্বাস করি।’ দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হিরন মুক্তির পর মিয়াজাকির উদ্বেগ কেটে গেছে। মুক্তির প্রথম তিনদিনে সিনেমাটি আয় করেছে ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার। আর জাপানি ইয়েনে পরিমাণটা একশ তিরাশি কোটি, যা স্টুডিও জিবলির কোনো সিনেমার জন্য সবচেয়ে সফল সূচনা। এর মাধ্যমে দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হিরন পেছনে ফেলেছে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া হউল’স মুভিং ক্যাসেলকে, যার প্রথম তিনদিনের আয় ছিল দেড়শ কোটি ইয়েন।

জাপানে আইম্যাক্সের ৪৪টি পর্দায় দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হিরন আয় করেছে ১৭ লাখ ডলার। প্রথম তিনদিনের জন্য জাপানে এটা আইম্যাক্সের রেকর্ড।

জাপানে সিনেমার বাজার ধীরগতির, অন্য জায়গার মতো শুরুতেই সবাই সিনেমা দেখতে ঝাঁপিয়ে পড়েন না। হউল’স মুভিং ক্যাসেল জাপানে চলেছিল ৪০৭ দিন। তাই দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হিরন যে বড় অংক আয় করবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। আর প্রচারণা নিয়ে সুজুকির নীতি অন্তত এবার ব্যর্থ হয়নি। বলা যায় না, এ নীতি ধীরে ধীরে দুনিয়ার বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিগুলোয়ও প্রয়োগ শুরু হয় কিনা।

দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হিরন নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো রিভিউ দেখা যায়নি। তবে জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লিখেছে, সিনেমাটি ভিজুয়াল সৌন্দর্য ও গভীর দার্শনিক বার্তা উপস্থাপন করেছে। সিনেমাটি সব বয়সের দর্শকদের জন্য এবং এর পুরো মর্ম উদ্ধারের জন্য সিনেমাটি অন্তত দুবার দেখতে হবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। সিনেমাটি উত্তর আমেরিকায় মুক্তি পাবে এ বছরের শেষ দিকে।

সূত্র: হলিউড রিপোর্টার