কথায় আছে সবুরে মেওয়া ফলে। মেওয়া ফলেছে ড্যানিয়েল ক্রেগের শেষ বন্ড সিনেমা নো টাইম টু ডাইয়ের বক্স অফিস আয়ে। করোনা মহামারীর কারণে বারবার মুক্তির তারিখ পেছানো হয় সিনেমাটির। তবে জেমস বন্ড ভক্তদের কাছে এমন এক নাম, যার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতেও রাজি ছিলেন তারা। আর এর ফল হিসেবে ২৫তম জেমস বন্ড সিনেমা জয় করে নিয়েছে কোটি ভক্তের হূদয়। ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, মুক্তির পর সম্প্রতি সিনেমাটির আয় ৬০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
নো টাইম টু ডাইয়ের নির্মাণ বাজেট ছিল ২৫ কোটি মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কেটিং এবং প্রমোশনের খরচ। ফলে এটা বলাই যায় যে এখনো বড় লাভের মুখ দেখতে পারেনি নো টাইম টু ডাই। এ সিনেমায় অভিনয় দক্ষতার জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন ক্রেগ। অনেকে বলেছেন, ক্রেগের ক্যারিয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনয় এটি।
বন্ড সিরিজের সবচেয়ে লম্বা সিনেমা নো টাইম টু ডাই-এর শুরুতেই চমক। মৃত বান্ধবীর সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম আক্রমণের শিকার বন্ড। আক্রমণের পেছনে ‘স্পেকটর’।
২০০৬ সালে ড্যানিয়েল ক্রেগ প্রথম বন্ড হয়ে পর্দায় আসেন। ক্যাসিনো রয়্যালেই ক্রেগ তার খেল দেখিয়েছেন। পরিপূর্ণ বন্ড হয়ে উঠতে একটুও সময় নেননি। এরপর কোয়ান্টাম অব সোলাস, স্কাইফল, স্পেকটর। বন্ড নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন প্রতি পদে। সেই সঙ্গে নিয়মিত সহশিল্পীদের সঙ্গেও হয়ে উঠেছেন একাত্ম। বন্ডকে দেখে মনে হয়নি এটি সিনেমা; বরং প্রতিবার মনে হয়েছে সত্যি সত্যিই তারা বন্ডের বন্ধু কিংবা শত্রু। নো টাইম টু ডাই হয়ে রইল সেসব শত্রু-বন্ধুর মিলনমেলা। হয়ে রইল সিনেমার চেয়েও বেশি কিছু। স্বাধীনচেতা, দুর্দমনীয় চরিত্র হয়েও যখন সে প্রেমে পড়ে কিংবা প্রেমিকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নেয়, তখন আর বন্ড শুধু কঠোর কোনো চরিত্র নয়, বরং মনে হয় রক্তমাংসের সাধারণ এক মানুষ। আর যদি হয় ড্যানিয়েল ক্রেগের মতো জাত অভিনেতা, তাহলে তিনি আরো বেশি আপন হয়ে ওঠেন দর্শকের কাছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










