মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস। তিনি গতকাল সকালে কক্সবাজার শহর থেকে সড়কপথে বিশ্বের সর্ববৃহত্ শরণার্থী ক্যাম্প উখিয়ার কুতুপালংয়ে যান। গত রোববার বিকালে তিনি ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছেন এবং সৈকতসংলগ্ন একটি পাঁচতারকা হোটেলে রাতযাপন করেন।

কুতুপালং শিবিরের চারপাশে ২০টির বেশি ক্যাম্পে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাস করছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা নয় লাখ রোহিঙ্গা। সকাল সোয়া ৯টার দিকে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহর কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছয়। প্রথমে তিনি ক্যাম্প-৯-এর সার্ভিস সেন্টার পরিদর্শন করেন। এরপর ক্যাম্প-৮ ডব্লিউ পরিদর্শন শেষে সেখানে ১০-১৫ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস।

রোহিঙ্গা নেতা কামাল হোসেন জানান, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, আশ্রয় শিবিরে থাকার পরিবেশ কেমন? নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন? মিয়ানমারে ফিরে যেতে রোহিঙ্গারা রাজি কিনা? মিয়ানমারে পরিবেশ কেমন ইত্যাদি। জবাবে কয়েকজন রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, গণহত্যা ও নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরতে রাজি। কিন্তু ফেরার আগে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং যেখান থেকে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, সেখানেই পুনর্বাসন করতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বলেছেন, মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মানবিক সেবায় রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে দেশটি।

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্রয় শিবিরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণ ও চিকিত্সাসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেন। কিন্তু সেখানে কী কথা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। বিকালে সড়কপথে কক্সবাজারে পৌঁছে বিমানযোগে ঢাকায় ফেরেন wZwb|