নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানার আগুন ৪৮ ঘণ্টা পর সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলাসহ পুরো ভবনটিতে তল্লাশি চালিয়ে নতুন করে আর কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। গতকাল বিকাল ৫টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনটিতে সর্বশেষ তল্লাশি চালিয়ে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন। পরে ভবনটি পুলিশ ও কারখানা কর্মকর্তাদের হেফাজতে ছেড়ে দেন।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলার কারণে ভবনের পঞ্চম তলার ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। একই কারণে পুরো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্মণ। তিনি বলেন, ভবনটিতে যেসব পণ্য উৎপাদিত হতো তাতে প্লাস্টিক, রেজিন, প্লাস্টিকের বোতল, প্লাস্টিকের মোড়কসহ দাহ্য পদার্থ এবং কেমিক্যাল ও তেল জাতীয় পদার্থ থাকার কারণে দীর্ঘ সময় আগুন জ্বলে। ফলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একদিকে আগুন নিভিয়ে গেলে পুনরায় সেদিকে আগুন ধরে যায়। এভাবে চলতে থাকার কারণে আগুন নেভাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা টানা চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) ও তদন্ত কমিটির প্রধান লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান জানান, সেজান জুস কারখানার ভেতরে মেশিন, গোডাউন ও কেমিক্যাল একসঙ্গে রাখার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কারণ কারখানার প্রতিটি ফ্লোরে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর সময় দেখেছি, মালামাল স্তূপ করে রাখার কারণেই আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। এছাড়া কেমিক্যালসহ দাহ্য পদার্থ ও প্লাস্টিক, ফয়েল কাগজ, কার্টনসহ বিভিন্ন মালামাল থাকায় আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। যে কারণে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে ত্রুটি ছিল। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে আগুন লাগার কারণ চিহ্নিতকরণের সুপারিশ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, অগ্নি দুর্ঘটনার পরই নিহত-আহতদের পাশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। নিহতদের আত্মীয়স্বজন থেকে এখন পর্যন্ত ৪৫ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো নিহতদের নমুনার সঙ্গে ম্যাচ করে মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের পর যত দ্রুত সম্ভব স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আহতাবস্থায় যারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তাদের চিকিৎসার তদারকি করছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।