নারায়ণগঞ্জে রেলক্রসিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে ট্রেনের ধাক্কায় তিনজন নিহত ও আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরীর ১ নং রেলগেটের ফলপট্টি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রেনটি টেনেহিঁচড়ে বাসটিকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনাস্থল থেকে এক শিশুর পায়ের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। আহত শিশুটি রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে একটি ট্রেন যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনে আসছিল। এ সময় নগরীর ১ নং রেলগেট এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে আনন্দ পরিবহনের একটি বাস রেলক্রসিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে। রাস্তার দুই পাশে তীব্র যানজটের কারণে বাসটি সামনে বা পেছনে যেতে পারছিল না। ফলে গেটম্যান ব্যারিয়ার ফেলতে পারছিলেন না। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে ৩০-৪০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে। তবে দ্রুতগতিতে ট্রেন আসতে দেখে বাসের চালক ও হেলপারসহ অন্য স্টাফরা দ্রুত নেমে পড়েন। বাসটি টেনেহিঁচড়ে নেয়ার সময় ফুটপাতের ব্যবসায়ীসহ বেশ কয়েকজন পথচারী বাসের নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই এক ডিম বিক্রেতা ও একজন পথচারী নিহত হন। এছাড়া শরীর থেকে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় অজ্ঞাতনামা শিশু।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহমান ও সাহেলা বেগম জানান, রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণেই বাস-ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ এ সংঘর্ষ হয়েছে। আরেকজন পথচারী জানান, ১ নং রেলগেটে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত এবং ভ্যানগাড়িতে করে পণ্য বেচাকেনা করেন হকাররা। এছাড়া এ সড়কের পাশেই ফলপট্টি পাইকারি মার্কেট ও দ্বিগুবাবুর বাজার। যার কারণে সড়কটিতে অনেক মানুষ হেঁটে চলাচল করে। ট্রেন স্টেশনের পাশেই কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড। শহরের সব বাস এ স্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যায় ও ফিরে আসে। ফলে এ সড়কে দিন-রাত যানজট লেগে থাকে। কিন্তু যানজট নিরসনের জন্য নেই কোনো ট্রাফিক ব্যবস্থা। যে যার মতো যানবাহন চালানো এবং রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত হকারদের দখলে থাকার কারণেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার শিকার হলেন দুজন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দুটি মরদেহ এবং আহত ৮-১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি শিশুর পায়ের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসের ভেতরে কোনো যাত্রী ছিল না। বাস তল্লাশি করে আমরা কোনো মরদেহ বা আহত কাউকে পাইনি।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. শাহ জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।










