সিলেট নগরের চৌহাট্টায় অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার তিনটি মামলা হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে সিলেট নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা তিনটি করা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় পুলিশ বাদী ও অন্যটি সিলেট সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে দায়ের করে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ বাদী হয়ে করা অস্ত্র মামলায় ফয়সল আহমদ ফাহাদকে (৩৮) আসামি করা হয়েছে। তিনি এ মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন। মামলাটি করেছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আরেক মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান বাদী এ মামলা করেন।

এছাড়া চৌহাট্টায় সংঘর্ষের ঘটনায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। সিসিকের উপসহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত দাস বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনটি মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত একজনকেই গ্রেফতার করতে পেরেছে পুলিশ। সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ আটক করা হয় ফয়সল আহমদ ফাহাদ নামে ওই ব্যক্তিকে।

উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ১টায় সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন মেয়র ও সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপরও হামলা করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে কাউন্সিলর-পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

পরে চৌহাট্টা থেকে পরিবহন শ্রমিকদের একটি দল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চন্ডিপুল এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা এলোমেলো গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে সড়ক অবরোধ করে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

এদিকে গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিবহন ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক নেতারা। বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (১৪১৮) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি ময়নুল ইসলাম।

বন্দুকসহ আটক ব্যক্তিকে নিয়ে ধূম্রজাল: বুধবার সংঘর্ষ চলাকালে বন্দুকসহ আটক করা হয় ফয়সল আহমদ ফাহাদকে। এ সময় মেয়র দাবি করেছিলেন ফাহাদ পরিবহন শ্রমিক এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বন্দুক নিয়ে এসেছিলেন। পরে জানা গেছে, ফাহাদ মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের অনুসারী নেতা। বুধবার অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে মেয়রের সঙ্গেই চৌহাট্টায় যান কাউন্সিলর আফতাব। তার সঙ্গে ফাহাদও ওই এলাকায় যান।