নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরাব এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবলীগ নেতা মিজান গ্রুপের সঙ্গে তারাবো পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন লোকজনের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দোকানসহ বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর ও সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, বরাব এলাকায় কয়েকটি খাবারের দোকানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন যুবলীগ নেতা মিজান ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে তারাবো পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেনের ক্যাডার সোলায়মান হত্যা মামলার পলাতক আসামি শুভ ও কাইল্যা মজিবরের সঙ্গে মিজানের বিরোধ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন শিল্প কারখানার পরিত্যক্ত মালামালের ব্যবসা (ওয়েস্টেজ) নিয়ন্ত্রণ, বালি ভরাটের ব্যবসা নিয়েও তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার সকালে মিজান অবৈধ সংযোগ দেয়া দোকান থেকে মাসিক মাসোহারার টাকা আনতে যান। স্থানীয় লোকজন মিজানকে টাকা নিতে বাধা দিয়ে জানায়, এ টাকা নিয়ে যেহেতু বিরোধ তাই কেউ টাকা নিতে পারবে না। টাকা দোকানদাররা মসজিদের ফান্ডে দিয়ে দেবে। এ নিয়ে তকোর এক পর্যায়ে শুভর ছোট ভাই মিজানের সমর্থক একজনকে চর-থাপ্পর মারে। পরে মিজান গ্রুপের লোকজন শুভর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। জবাবে শুভ ও কাইল্যা মজিবরের নেতৃত্বে প্রায় ৪০/৫০ জন লাঠিসোঁটা, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যুবলীগ নেতা মিজানের চারতলা বাড়ির প্রতিটি কক্ষ ভাংচুর লুটপাটসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে জখম করে। পরে তারা বরাব ছাপড়া মসজিদ এলাকায় মিজানের নিকট আত্মীয় হারিজ মিয়া ও হাসিব মিয়ার জামদানি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে শতাধিক শাড়ি ও নগদ টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া  আরো ২১ জনের বাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে নগদ টাকা-পয়সাসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। এছাড়া হামলাকারীরা বাজারের ১৯টি সিসি ক্যামেরা ও চারটি অটোরিকশা ভেঙে ফেলে। হামলায় আবুবক্কর, বাজিবর, শামীমা, ছয় মাসের শিশু আফরীন, আবির, শারমীন আক্তার রীমা, মনির হোসেন, নুর আলম, কামরুজ্জামান, হযরত আলীসহ অন্তত ১৪ আহত হয়েছে।

মিজানের বাবা হযরত আলী অভিযোগ করেন, তারাবো পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন এ হামলার নেপথ্য ইন্ধন দিয়েছেন। শুভ ও মজিবর কাউন্সিলরের ক্যাডার। হামলার আলামত নষ্ট করার জন্যই বাজারের সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়েছে। তারা কোনো কারণ ছাড়া আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জানান, আমি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ঘটনা ঘটেছে নয় নম্বর ওয়ার্ডে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন জানান, আধিপত্য বিস্তার ও অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি, সংঘর্ষ এবং দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।