উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্রুত গতিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে আবাদি জমি। ঘরবাড়িতে উঠতে শুরু করেছে পানি। হঠাৎ যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি। ইতিমধ্যে জেলার ২০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।

আজ রোববার সকালে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল এবং এ প্রতিবেদন লেখার সময় (বিকেল ৩টা) পানি  দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম ভুঁইয়া জানান, ইউনিয়নের চরের নিচু এলাকায় বর্ষার পানি প্রবেশ করেছে। যার কারণে অনেকেই পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিরাজগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে রোববার বিকেল ৩টায় বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েক দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল হক বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টিতে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৩০টি ইউনিয়নের 

চরাঞ্চলগুলোর এক হাজার ৪০৪ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে পাট ৯৫৫, তিল ৩৭১ এবং আখ ৭৮ হেক্টর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পানিতে নিমজ্জিত ফসল বেশী দিন থাকলে বেশিরভাগ ফসলই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।