দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো বিশ্বমানের সেবা দিলেও তাদের অবদানকে কেউ স্বীকার করে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস।
তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কথা বললে আমরা সবাই নাক সিঁটকাই। কিন্তু তারা বিশ্বমানের চিকিৎসা দিয়ে গেলেও তাদের অবদানকে স্বীকার করা হয় না। কথায় কথায় সবাই মুনাফার কথা বললেও এ সেবার পেছনের ব্যয় নিয়ে কেউ কথা বলে না।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ-২০২৫’-এ ‘বেসরকারি স্বাস্থসেবা’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস বলেন, বিগত কভিড থেকে আমরা কোনো শিক্ষা নেইনি। আমরা এখনো বিদেশী মডেল নিয়ে আলোচনা করি। অথচ আমাদের দেশীয় মডেল দরকার। এখনো সরকারি খরচে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ডাক্তার নিয়োগ করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু একটা টেলিমেডিসিন সেন্টার করে গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা কেউ ভাবছে না।
তিনি আরো বলেন, গ্রামাঞ্চলে এখনো কবিরাজের দৌরাত্ম্য আছে। সাধারণ মানুষ এখনো তাদের ওপর বিশ্বাস করে চিকিৎসা নেয়। কারণ, আমরা গ্রামাঞ্চলে ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারিনি।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবায় বেসরকারি খাতের অনেক অনেক অবদান থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে মন্তব্য করেন ডা. মোসাদ্দেক। তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিকে অনেক ঘাটতি থাকলেও তারা ৭৩ শতাংশ সেবা দিচ্ছে। অথচ বাস্তবতার নিরিখে বেসরকারি খাতকে উপেক্ষা করা হয়। আমাদের দরকার সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয়।
তিনি আরো বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে সুপারস্পেশালাইজড হসপিটাল করছে। কিন্তু সেখানে কতটা সুপারস্পেশালাইজড সেবা দেয়া হচ্ছে? আমাদের তো প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তার আছে। চাইলেই তো আমরা সেখানে সে সেবা দিতে পারি। আমাদেরকে স্বাস্থ্য সেবার এ ভঙ্গুরতা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। এজন্য বেসরকারি খাতের প্রক্রিয়াগুলোকে সহজীকরণ করা দরকার। তাহলে সরকারের উদ্দেশ্যকে আরো এগিয়ে নেয়া সহজ হবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স নিতে গেলে তাদেরকে কলকারখানা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বেসরকারি খাতকে সহজীকরণ করার সময় এসেছে। একে চেইন অব কমান্ডে নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ব্যতীত যেন কেউ লাইসেন্স না পায়, এ রকম ব্যবস্থা থাকা দরকার।










