যশোরে উৎসবমুখর পরিবেশে গুরুজনের হাত ধরে ঐতিহ্যবাহী তালপাতায় হাতেখড়ির মাধ্যমে শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়েছে তিন শতাধিক শিশুর। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গুণী মানুষ উপস্থিত হয়ে শিশুদের হাত ধরে তালাপাতার ওপর লিখিয়ে বিদ্যা অর্জনের শুভ সূচনা করেন। এ উপলক্ষে গতকাল বেলা ১১টায় শহরের পৌর পার্ক মাঠে বসেছিল শিশুদের মিলনমেলা। উদীচীর উদ্যোগে শহরের সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুদের নিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় সংগীতের পর উদীচীর সংগীত পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় এ উৎসব। উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি বলেন, স্কুলজীবনে জ্ঞানার্জনের শুরুতে সার্বজনীন এমন আয়োজন উপস্থিত কোমলমতি শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে। অভিভাবকের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্কুলজীবন শিক্ষাজীবন যেন বোঝা না হয় সেদিকে অভিভাবককে খেয়াল রাখতে হবে। এ শিক্ষায় মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে শিশুদের শিশুর মতো বড় হতে দিন। তিনি বলেন, সবকিছুতে প্রথম হতে হবে—এমন মানসিক চাপ দিয়ে বড় করে তোলার প্রয়াস শিশুর সুকুমার প্রবৃত্তি প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, যা কোনো অভিভাবকের কাম্য হতে পারে না।
উদীচী যশোরের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গনি খান পলাশ, দৈনিক কল্যাণের প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযুদ্ধা একরাম-উদ্দ-দৌলা, গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, অক্ষর শিক্ষালয়ের অধ্যক্ষ শৈলেস কুমার রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী সাধারণ সস্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বিপ্লব।
আয়োজকরা জানান, ২০১১ সাল থেকে উদীচী যশোরের উদ্যোগে হাতেখড়ি উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে। এবারের উৎসবে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতেখড়ি হয়। আমন্ত্রিত অতিথি ও জেলার স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা শিশুদের হাতেখড়ি দেন। এর আগে কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল থেকে অভিভাবকের হাত ধরে পৌর পার্কে জড়ো হয় শিশুরা। অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়োজকরা শিশুদের হাতে তুলে দেন রঙবেরঙের বেলুন ও ফুল।










