নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারডুবির ঘটনায় তিনদিন পেরিয়ে গেলেও ডুবে যাওয়া ট্রলার এবং নিখোঁজ কারো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ  করেছেন নিখোঁজের স্বজনরা। তারা তল্লাশি কার্যক্রমের সক্ষমতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

গতকাল সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল তৃতীয় দিনের মতো ধলেশ্বরী নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে জীবিত বা মৃত কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। এ সময় নদীর দুই পাশের তীরে নিখোঁজের স্বজনরা ভিড় করেন। নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের চারজনসহ মোট ১০ জন।

তিনদিনেও ট্রলার ও নিখোঁজ কাউকে না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। নিখোঁজ জিয়াছমিনের ভাই মোক্তার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনদিন হয়ে গেলেও বোন-ভাগিনার মরদেহটা পর্যন্ত পাচ্ছি না। কী নিয়ে আমরা বাড়ি ফিরব। নিখোঁজ আওলাদ হোসেনের খালাতো ভাই  রুহুল আমিন বলেন, তিনদিন ধরে ভাইয়ের সন্ধানে নদীতীরে বসে আছি। কেউ তাদের সন্ধান দিতে পারছে না।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীর ডুবুরি দল নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালিয়েছে কোনো মৃতদেহ বা ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পায়নি। তিনি  বলেন, আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

নৌ পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদ জানান, নৌ পুলিশ,  ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড সবাই নদীতে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ট্রলার বা নিখোঁজ কারো সন্ধান মিলেনি। এদিকে ট্রলারডুবির ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা রিফাত ফেরদৌসকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।