সিলেটের বন্ধ থাকা কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের দাবিতে বিভাগজুড়ে টানা তিনদিনের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। গতকাল ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন বন্ধ ছিল সব ধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল। টানা ধর্মঘটের কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এদিকে পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে এবার ধর্মঘট ডেকেছেন সিলেটের পেট্রলপাম্প মালিকরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নগরের কয়েকটি পেট্রলপাম্পে জরিমানার পর গতকাল ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখা। ছয় দফা দাবি জানিয়ে সংগঠনের নেতারা বলেন, এ দাবি মানা না হলে ২৭ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাবেন তারা।

এর আগে পাথর উত্তোলনের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু করে সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ, যা চলবে আজ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত।

গতকাল সকাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দিতে দেখা যায় পরিবহন শ্রমিকদের। নগরের বিভিন্ন সড়কে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশও।

সিলেটের হেতিমগঞ্জ থেকে প্রতিদিন বাসে করে নগরীতে অফিস করতে আসেন সরকারি কর্মকর্তা আশফাকুল হক। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বুধবার তাকে পড়তে হয় বিপাকে। কিছুটা পথ হেঁটে, কিছুটা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে ও কিছুটা রিকশায় করে অফিসে আসতে হয়েছে তাকে।

আশফাকুল বলেন, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শেষ পর্যন্ত অফিসে এসে পৌঁছাতে পেরেছি। কিন্তু এতে সময় এবং ভাড়া দুটোই বেশি লেগেছে। দুর্ভোগ তো আছেই।

পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে সিলেটের অন্যান্য খাতেও। একেবারে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সিলেট। রাস্তাঘাটে মানুষজন কম থাকায় বিপণিবিতান ও রেস্টুরেন্টগুলোও একেবারে ফাঁকা। মাছ ও সবজির দামও বাড়তে শুরু করেছে।

নানা সমালোচনা সত্ত্বেও নির্ধারিত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার। তিনি বলেন, সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে নড়ছি না। আমরা চাইছি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের কোনো নির্দেশনা দেবেন। এজন্য আমরা পরিবহন ধমর্ঘটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নজরে বিষয়টি দিতে চাইছি।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, শ্রমিকদের ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। সিলেট মহানগরীতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। তবে সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

পেট্রলপাম্প ধর্মঘট: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে চারটি পেট্রলপাম্পকে জরিমানার পর ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা ছয়টি দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেছি। আমরা দীর্ঘদিন থেকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদিত তেল বিক্রি করে আসছিলাম। কিন্তু কয়েক মাস থেকে সিলেটের পাম্পগুলোয় গ্যাস ফিল্ডের তেল না দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তেল দেয়া হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তেল খুবই নিম্নমানের ও ভেজাল। যার কারণেই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে আমাদের পাম্পগুলোয় জরিমানা করেছে।

এর আগে গত সোমবার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯, বিএসটিআই ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে জ্বালানি তেল পরিমাপে অনিয়মের কারণে চারটি পেট্রলপাম্পকে জরিমানা করা হয়। এর পরই ধর্মঘটের ডাক দেয় পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠন।