স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে দেশেই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার অগ্রগতির লক্ষ্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ-২০২৫’। ‘উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সমৃদ্ধ দেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে সম্মেলনটির আয়োজন করেছে বণিক বার্তা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক তপন চৌধুরী।

সম্মেলনে মোট পাঁচটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ‘স্বাস্থ্য-ওষুধ খাতের প্রবিধান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা’ বিষয়ে আলোচনা করবেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার। ‘বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মান’ নিয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ।

‘বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস।

‘জনস্বাস্থ্য’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, জাতীয় নাগরিক পার্টি সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ন্যাশনাল টেলিহেলথ সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডা. নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ।

এছাড়াও দেশের স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারক, গবেষক, বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ও চিকিৎসাযন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, আর্থিক অবস্থার কারণে কেউ বিদেশে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেবে, আর যার টাকা নেই সে দেশে চিকিৎসা নেবে—স্বাস্থ্যখাতকে যেন এভাবে না দেখা হয়। স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে আমাদের অর্থনীতির আকার ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগামী ৫-৭ বছরে হয়তো প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাবে আমাদের অর্থনীতি।

দেওয়ান হানিফ মাহমুদ আরো বলেন, আমরা বিদেশী বিনিয়োগ আনার জন্য দেশে-বিদেশে নানা সম্মেলন আয়োজন করেও ১ বিলিয়ন ডলার বা তার চেয়ে অল্পকিছুর বেশি বিনিয়োগ আনতে পারি না। বিপরীতে দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। পাচারকৃত এ অর্থের আকার হয়তো যে বিনিয়োগ আসছে, তার চেয়েও অনেক বেশি। একইসঙ্গে আমাদের ভাবা দরকার যে, দেশের স্বাস্থ্য চাহিদা শুধুমাত্র সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দিয়ে কাভার করা সম্ভব নয়। গত ২০ বছরে বেসরকারি খাত ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ করেছে। যদিও সেখানকার মান এবং পুরো স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

বাংলাদেশকে যেন স্বাস্থ্যখাত দিয়েই ব্র্যান্ডিং করা যায়, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বণিক বার্তার সম্পাদক আরো বলেন, বাংলাদেশ হয়তো সামনে অর্থনৈতিকভাবে আরো বড় হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেসমস্ত দেশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বেশি বিনিয়োগ করেছে, সে দেশগুলোই ঠিকমতোই রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পেরেছে। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে এশিয়ার তো সর্বনিম্নই, পুরো বিশ্বেও অনেক নিচের দিকে। আমাদের দেশকে স্বাস্থ্যখাত দিয়েই যেন ব্র্যান্ডিং করতে পারি। আমাদের যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল আছে। যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা আছেন, তাদের মধ্যে যেন সে ইচ্ছেটা প্রবাহিত হয় যে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে স্বাস্থ্যখাতের মধ্য দিয়েই চিনতে পারে বিশ্ব।