আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর ১৫টি আসনে ৬৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্রও। তবে এসব আসনে বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হলেও জামায়াতের একজন প্রার্থীসহ দুজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। এসব আসনে ১৯৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

এদিকে এদিন ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া ঢাকা-১১ আসনে এনসিপি মনোনীত ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নাহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-৮ আসনে একই দল ও জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ঢাকা-১৮ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমে হলফনামা ও আয়কর রিটার্নের তথ্যে অসামঞ্জস্যতা থাকায় তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সংশোধিত কাগজপত্র জমা দেয়ার পর কমিশন তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।

ঢাকা মহানগরের (ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১১, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৮)—এ ১৩টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার। এ আসনগুলোর মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে। আর ঢাকা মহানগরের বাকি দুটি আসন ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫-এর রিটার্নিং কর্মকর্তা হলেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। এ দুই আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে।

ঢাকা মহানগরের ১৩টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার আওতাধীন আসনগুলোতে মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন ২৫৩ জন। জমা দিয়েছিলেন ১৭৪ জন। এর মধ্যে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন ১১৮ জন।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘১৩টি আসনে বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আশরাফুল হকের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। আশরাফুল হক সংশ্লিষ্ট একটি নথি রোববার (আজ) জমা দেবেন। তিনি সময় প্রার্থনা করেছেন। তার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।

ঢাকার ১৩টি আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হক, ঢাকা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাদ্দেদ আলী বাবু ও মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফারুক, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা, ঢাকা-১৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম, গণ-অধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মো. খালেকুজ্জামান ও আমজনতার দলের প্রার্থী রাজু আহমেদ, ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তানজিল ইসলাম ও ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি।

যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী উল্লেখ করে এ রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশের স্বাক্ষর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়। কিন্তু বেশির ভাগ প্রার্থী তা সঠিকভাবে দিতে পারেননি। ঋণখেলাপির কারণে কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। কিছু আবার বাতিল হয়েছে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে। প্রার্থিতা বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা আপিল করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

বাকি দুটি আসনে (ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫) ২০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল বলে সাংবাদিকদের জানান দুই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ১১টি বৈধ হয়েছে। একজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত হয়েছে। বাকি আটটি বাতিল হয়েছে।’

এদিকে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্নিং অফিসার। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে পর সেখান থেকে এ কথা জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। আমরা আশা করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন, সেই নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের জনগণ আমাদের নেতা, দেশনেতা তারেক রহমানকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।’

আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আবার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন।’

এদিন বগুড়া-৬ (সদর) আসনেও তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে তিনিসহ দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান।

অন্যদিকে রাজধানীর সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমকে এ কথা জানান। তাসনিম জারা বলেন, ‘মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে ১০ জনকে যাচাই করা হয়। যাচাইকৃতদের মধ্যে আটজনই স্বাক্ষরের বিষয়টি বলেছে; একজনকে ফোনে পাওয়া যায়নি, আরেকজন বলেছেন তিনি এ এলাকার ভোটার না। আমার আপিল করার সুযোগ আছে, আমি আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এনসিপি থেকে পদত্যাগ করার জন্য আমার জনপ্রিয়তা কোনো অংশে কমেনি। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, আমি নির্বাচনে অংশ নিলে জয়লাভ করব।’

এদিকে ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান লিটনসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল ময়মনসিংহ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, ‘মামলার তথ্য গোপন করায় বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া অন্য প্রার্থীরাও তথ্য গোপন করায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।’

ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে মোট নয়জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তার মধ্যে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন বিএনপির মো. মাহাবুবুর রহমান লিটন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত, জয়নাল আবেদীন, আবুল মুনসুর, খেলাফত মজলিসের নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস।

এদিকে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে যাচাই-বাছাইয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ লিয়াকত আলী ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হামিদুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসনে এবি পার্টির মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে দুজনের। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নূরে আলম সিদ্দিকী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) আসনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই শেষে কিশোরগঞ্জের তিনটি আসনে ১০ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তিনটি আসনে মোট ২৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘মামলাসংক্রান্ত তথ্য গোপন করার কারণে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের তালিকায় গরমিলের কারণে হাসনাত কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমার মনোনয়নপত্রও ১ শতাংশ ভোটারের তালিকায় গরমিলের কারণে বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া বাকি সাত প্রার্থীর অধিকাংশই স্বতন্ত্র। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এ ঘোষণা দেন। চট্টগ্রাম-৫ সংসদীয় আসনে তিনিসহ মোট ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানকার স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-কোষাধ্যক্ষ এসএম ফজলুল হক ও সাবেক হুইপ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে সাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের যে সই জমা দিতে হয়, সেখানে গরমিল পাওয়ায় ফজলুল হক ও সাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হকের মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপি হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম এ ঘোষণা দেন।

ঢাকা-২ আসনে তিনজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আব্দুল হক ছাড়া বাকি দুজন হলেন বিএনপির আমানউল্লাহ আমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম। এ দুজনের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানের উদ্দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘শুরুতে আপনার বিরুদ্ধে মামলার তথ্য সম্পর্কিত কাগজপত্রে ঘাটতি ছিল, এখন পুরোটাই আমরা মিলিয়ে নিতে পেরেছি। একটা মামলায় পুলিশের রিপোর্ট ছিল, কিন্তু মামলার আদেশটি বাতিল হয়েছিল কিনা, এটা ছিল না। এখন আমাদের হাতে এসেছে। আপনার মামলা সম্পর্কিত জটিলতা কেটেছে। আপনার মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হলো।

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে নাগরিকত্ব জটিলতায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ঘোষণা দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফাহিম চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ সংযুক্ত করেননি। এরপর আজ বিকাল ৫টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলেও তিনি তা দাখিল করতে ব্যর্থ হন।

অন্যদিকে সমর্থকের স্বাক্ষরের জায়গায় নিজে স্বাক্ষর করায় জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান আজাদীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান আজাদীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ আসনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ, জামায়াতে ইসলামীর মো. মুজিবুর রহমান আজাদী, ফারজানা ফরিদ, শিবলুল বারী রাজু এবং এএসএম শাহীনুর রহমান।

ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনির মনোনয়নপত্রও বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। হলফনামায় তথ্যের অসংগতি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রে ত্রুটি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। গতকাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ঝালকাঠির দুটি আসনে ২৫ প্রার্থীর মধ্যে নয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

ঝালকাঠি-১ আসনে ইরান ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি নেতা) গোলাম আজম সৈকত, (বিএনপি নেতা) মঈন আলম ফিরোজী ও (বিএনপি নেতা) অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের শাহাদাত হোসেন, জাতীয় পার্টির কামরুজ্জামান খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদিকে ঝালকাঠি-২ আসনে জাতীয় পার্টির এমএ কুদ্দুস খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুদ্দীন সরদার ও সৈয়দ রাজ্জাক আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মমিন উদ্দিন বলেন, ‘মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আইন অনুযায়ী আপিল করতে পারবেন।’