ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধায় আবারো রেলওয়ের কাজ বন্ধ হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর বিকাল থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। এর আগে শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতর কাজ হচ্ছে এমন অজুহাতে বিএসএফের বাধার মুখে গত ৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা এলাকার তিনটি পয়েন্টের কাজ। দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর দুই দেশের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে জটিলতা নিরসনে আলোচনা হলে ২৪ ডিসেম্বর পুনরায় বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় কসবার রেলস্টেশন, সালদা নদী ব্রিজ ও সালদা নদী স্টেশনের কাজ। তিনদিনের মাথায় পুনরায় কসবা রেলস্টেশন ও সালদানদী রেলস্টেশন নির্মাণের কাজে বাধা দেয় বিএসএফ। এতে কাজ বন্ধ রাখে তমা কনস্ট্রাকশন। তবে সালদা নদী ব্রিজের কাজে কোনো বাধা দেয়নি বিএসএফ।
সোমবার সকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সিভিল ডিপার্টমেন্টের প্রকৌশলী সোহেল রানা বণিক বার্তাকে বলেন, দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার কাজ শুরু হলেও রোববার বিকাল থেকে বিএসএফের বাধায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আবারো তিনটি পয়েন্টের মধ্যে দুটি পয়েন্টের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু সালদা নদী ব্রিজের কাজের অনুমোদন বিএসএফ হাতে পেয়েছে।
তমা গ্রুপের কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র ভৌমিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত রোববার বিকালে বিএসএফ বাধা দেয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে লোকজন এসে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। তাই গত রোববার বিকাল থেকে পুনরায় বন্ধ রাখা হয়েছে।
৬০ বিজিবির অধীন কসবা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার হারুনুর রশিদ বলেন, বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তিনি তমা গ্রুপের স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলেছেন। এর পর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। কসবা স্টেশন ও সালদা নদী স্টেশনে কাজ শুরু করার বিষয়ে সীমান্তের ওপারে বিএসএফ অধিনায়ক ভারত সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা পাননি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ওপর দিয়ে অবস্থিত ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের সম্প্রসারিত ডুয়ালগেজ রেলপথ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। গত এপ্রিল মাস থেকে কসবা, সালদা নদী ও মন্দাবাগ ৩টি পয়েন্টের কাজ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বাধায় বন্ধ হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সীমানার অজুহাতে কাজ বন্ধ হয়ে গেলে রেললাইনের পাশে লাল নিশান টানিয়ে দিয়ে সতর্কতা জারি করে বিএসএফ। এতে প্রকল্পে ব্যবহূত অনেক মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হওয়ায় উপক্রম হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় ও নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি সমাধানের পর শুক্রবার কাজ পুনরায় শুরু হয়। কাজ শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কুমিল্লা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার চলমান ডুয়ালগেজ প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে বলে আশাবাদী ছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।










