নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভিন্ন কৌশল নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ভোট চাইছেন।
আইভী আট বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করার সময় যেসব উন্নয়ন কাজ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করছেন তা তুলে ধরছেন। আগামী নির্বাচনে তার স্লোগান ‘সবুজ শ্যামল জনপদ, নগর গড়ি নিরাপদ’। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক (স্বতন্ত্র) প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে আগামী ১০০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান সামনে নিয়ে এসেছেন। নির্বাচিত হলে কীভাবে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন করবেন তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।
গতকাল সকালে আইভী বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া এক সংবর্ধনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তিনি নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচন এলেই একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে। তিনি এসব অপপ্রচারে কান না দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।
আইভী বলেন, আমি উন্নয়নকাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আজ যে মাঠে অনুষ্ঠান হচ্ছে সেই মাঠটিও সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আমি করে দিয়েছিলাম। আমি চেষ্টা করেছি সার্বক্ষণিক কাজ করতে। কাজ করেছি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে। ট্যাক্স আপনারা সবাই দেন। এজন্য কখনো ভাবিনি রাস্তা দিয়ে আওয়ামী লীগ হাঁটবে না বিএনপি হাঁটবে। সবার জন্য সমানভাবে কাজ করেছি। নেত্রীর সরাসরি নির্দেশ ছিল সিটি করপোরেশনে উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাও। রাজনীতি আমারটা আমি বুঝব। তুমি কখন কোথায় যাবে সেটা আমি দেখব। তাই আমি নেত্রীর নির্দেশে উন্নয়নকাজ করেছে, যার সুফল এখন আপনারা পাচ্ছেন।
তৈমূর আলম খন্দকার সকালে নগরীর সাধু পৌলের গির্জায় খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের ৮ নং ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যদি জয়লাভ করতে পারি তবে আগামী ১০০ বছরের একটি গ্র্যান্ড মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করব, যা জনগণের মাঝে ছেড়ে দেয়া হবে। জনগণ এটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এ মাস্টারপ্ল্যানে জনগণের পরামর্শ থাকবে। ওই পরামর্শ আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এমন একটি শহর তৈরি করতে চাই, যেখানে মানুষ ট্যাক্সের বিনিময়ে সঠিক সুযোগ-সুবিধা পায়।










