নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরী নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ মা-মেয়েসহ ছয়জনের মরদেহ ভেসে উঠেছে। ঘটনার পাঁচদিনের মাথায় গতকাল সকালে ভেসে ওঠা মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
এদের মধ্যে একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের ভেতর মা-মেয়ে রয়েছেন। এরা হলেন জেসমিন আক্তার (৩০) ও তার মেয়ে তাসমিন আক্তার (১৬), কলেজছাত্র
সাব্বির হোসেন ও জোসনা নামে এক নারী। বাকি দুজনের পরিচয় তাত্ক্ষণিক পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরো চারজন। তাদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।
বক্তাবলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোরশেদ মো. জিয়াউল আলম জানান, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নদীতে ছয়টি মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। চারজনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তাদের মরদেহ স্বজনদের
কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুটি মরদেহ নদীর তীরে রাখা হয়েছে। শনাক্ত হলেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবিয়ে দেয়া এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের চালক, মাস্টার ও সুকানিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট নূর নাহার ইয়াসমিন তাদের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, নিখোঁজ মা-মেয়েসহ মোট ছয়জনের মরদেহ ভেসে উঠেছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, বক্তাবলী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতে মা ও মেয়েসহ ছয়জনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ বাকিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশও চেষ্টা চালাচ্ছে।
৫ জানুয়ারি সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ধলেশ্বরী নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে ১০ যাত্রী নিখোঁজ হন। নিখোঁজরা হলেন কিশোরগঞ্জের ইদ্রিস আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ, রেকমত আলীর ছেলে মোতালেব, চর বক্তাবলী এলাকার রাজুর ছেলে সাব্বির, মধ্য চরের সোহেলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার, সোহেলের ছেলে তামীম খান, মেয়ে তাফসিয়া, তাসমিম ওরফে তাসলিমা, আওলাদ, মো. শামসুদ্দিন ও জোসনা বেগম।
এ ঘটনায় ৬ জানুয়ারি বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের নৌ নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় গ্রেফতার মেসার্স ফারহান নেভিগেশনের এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসান (৪০), ইনচার্জ
চালক মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও সুকানি মো. জসিম মোল্লাকে (৩০) আসামি করা হয়।










