সিলেটের বিয়ানীবাজারে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা গ্রামের নিজ ঘর থেকে নাজমিন আক্তার (১৮) নামে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন (২৩) পলাতক রয়েছেন।

নাজিম উদ্দিনের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায়। তবে কয়েক বছর ধরে তিনি বিয়ানীবাজারের বালিঙ্গা গ্রামে নাজমিনদের পাশের বাড়িতে বসবাস করছেন।

স্থানীয়রা জানায়, পেশায় দিনমজুর নাজিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নাজমিনকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও নাজমিন তাতে সায় দেয়নি। সম্প্রতি নাজমিনের বিয়ে ঠিক হলে নাজিম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গতকাল দুপুরে ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন নাজমিন। এ সময় নাজিম উদ্দিন চুপিসারে ঘরে ঢুকে পেছন দিক দিয়ে নাজমিনের গলায় দা দিয়ে কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নাজমিন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম খান বলেন, নিহত তরুণীর মূল বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়। তবে তাকে শিশুকাল থেকেই নিজ মেয়ের মতো লালনপালন করছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল হক চৌধুরী কস্তই মিয়া। সম্প্রতি তার বিয়ে ঠিক করেছিলেন সামসুল হক।

তিনি আরো বলেন, নাজিম উদ্দিনের পক্ষ থেকে নাজমিনকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বলে শুনেছি। এতে রাজী না হওয়ায় তাকে খুন করা হতে পারে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ বালিঙ্গা গ্রামে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তা ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এছাড়া সুরতহাল প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানায় পুলিশ।

ওসি জানান, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ক্ষোভ থেকে ওই তরুণীকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।