বর্তমান সরকারের বৈধতা নিশ্চিত না করে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নির্বাচন আয়োজনের সমালোচনা করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। রাজধানীর প্রেস ক্লাবে গতকাল এক আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করেছি আপনার যেন মতি হয়। আপনি যেন রাজনীতি কাকে বলে, এটা বোঝেন; আইন কাকে বলে, বোঝেন। কারণ, রাষ্ট্র মানে কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক চালানো নয়।’
‘ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও নির্বাচন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ’ নামে একটি সংগঠন। ফরহাদ মজহার বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গত বছরের জুলাইয়ে পতন হওয়া সরকারের সংবিধান ও আমলাতন্ত্র অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেনি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সংবিধান বহাল রেখে এবং বর্তমান সরকারের বৈধতা নিশ্চিত না করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, নির্বাচন আয়োজন করছেন।’
ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে মুক্ত না হলে নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কোনো অর্থ নেই বলে মনে করেন এ চিন্তক। প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘আপনি তো গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এসেছেন, আপনি গণ-অভ্যুত্থানের কেউ নন। আমি আবারো বলছি—এখানে ভুল বোঝার কোনো অপশন নেই। তিনি গণ-অভ্যুত্থানের কেউ নন। এখানে যারা বসে আছেন, তারা অনেকে সরাসরি গণ-অভ্যুত্থানে রাস্তায় ছিলেন, বুক পেতে দিয়েছিলেন। আমরা বছরের পর বছর নির্যাতিত হয়েছি। আমাদের কথা বলতে দেয়া হয়নি। ঘরবন্দি ছিলাম, হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের সৈনিক। সেখান থেকে উঠে এসে আমাদের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা, সেটার জোরে আপনাদের সামনে কথা বলছি। কিন্তু ড. ইউনূস সেটি করেননি।’
‘এরপরও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে গ্রহণ করা হয়েছে এবং কোনো বিরোধিতা করা হয়নি’—উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘ভেবেছি ভূরাজনৈতিকভাবে একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র আমরা। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার ভালোবাসা পেলে আমরা সেগুলো মোকাবেলা করতে পারব। তিনি যদি গণ-অভ্যুত্থানের ভাষা বোঝেন, আমাদের মনের অভিপ্রায় বোঝেন তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। কিন্তু তিনি গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায় বোঝেননি। এখন তিনি যে জায়গায় গেছেন, এটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রথমে তিনি ভুল করেছেন। তিনি এসে তরুণ শিক্ষার্থীদের মাস্টারমাইন্ড বলে পরিচয় করিয়েছেন। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের সত্তা হচ্ছে জনগণ, কোনো ব্যক্তি নয়। সবাই মিলে এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে। এখানে বাম ছাত্ররা ছিল, শিবির ছিল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ছিল। সবাই মিলে এ গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছে।’










