কক্সবাজারের মহেশখালীর গোরকঘাটা বাজারে জেলা পরিষদ সদস্য খাইরুল আমিন সিকদার (২৮) হত্যা মামলার ৩২ বছর পর ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মহেশখালী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার আজম, তার দুই ভাই বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা জহির উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন এবং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম ও সাধন নামের এক ব্যক্তি। রায় ঘোষণার সময় সাধন ছাড়া বাকি পাঁচজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সুলতানুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১০ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ২৪ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তবে এ মামলায় সপ্তমবারের মতো রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হয়। পূর্বনির্ধারিত দিন অনুযায়ী গতকাল আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২৬ আসামির মধ্যে ছয়জনকে যাবজ্জীবন ও বাকি ২০ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। এ মামলা চলার সময় দুজন আসামির মৃত্যু হয়েছে। মামলার দুই আসামি জহির উদ্দিন ও ইব্রাহিম হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের ৯ এপ্রিল বিকালে মহেশখালীর গোরকঘাটা বাজারে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন তত্কালীন জেলা পরিষদ সদস্য ও তরুণ রাজনীতিক খাইরুল আমিন সিকদার। তিনি গোরকঘাটার হামজা মিয়া সিকদারের ছেলে। ওই দিন নিহত খাইরুল আমিনের বড় ভাই মাহমুদুল করিম বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় মহেশখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর বক্স, পুটিবিলার শামশুল আলম, নাসির উদ্দিন, হামিদুল হকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।