নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের প্রাণহানির ঘটনার কারণ শনাক্তে ১০টি বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত শুরু করেছে। গতকাল দুপুরে আগুনে পোড়া কারখানা পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে সিআইডির ডিআইজি ইমাম হোসেন এ কথা জানান।

সিআইডির ডিআইজি বলেন, তদন্তভার পেয়ে বিভিন্ন আলামতসহ মাঠ পর্যায়ে সাক্ষ্য ও তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করতে কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করে তদন্তকাজ চলছে। সিআইডির তদন্তে যেকোনো ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের তদন্তকাজ সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন সিআইডির এ কর্মকর্তা। এ সময় আরো অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পুলিশের দায়ের করা মামলাটির তদন্তভার পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স বৃহস্পতিবার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে। গতকাল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সিআইডির তদন্ত দল আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

সিআইডি পুলিশের ডিআইজি ইমাম হোসেন জানান, জুস কারখানায় আগুনে পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন আলাতম সিআইডি পুলিশ এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছে। এগুলো ফরেনসিক করা হবে। তদন্তের প্রয়োজনে আগুন লাগার পর ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত শ্রমিকসহ উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এত হতাহতের জন্য কোম্পানির গাফিলতি কতটুকু ছিল তাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

১৯ সদস্যের নাগরিক তদন্ত কমিটি: সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। কমিটির আহ্বায়ক ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল এবং তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব আনু মোহাম্মদসহ তদন্ত দলের সদস্যরা গতকাল দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অগ্নিদুর্ঘটনাকবলিত কারখানাটি পরিদর্শন করেন। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির সঙ্গেও বৈঠক করেন তারা। বৈঠক শেষে তদন্ত কমিটির নেতারা প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে জানান, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, ভবনটির চারতলা পর্যন্ত পরিদর্শন করে তারা নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছেন। কারখানাটি স্বশরীরে পরিদর্শন করে যত ধরনের তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন ছিল তা সংগ্রহ করেছেন। কারখানা পরিচালনার সময় যে সরকারি দপ্তরগুলোর ভূমিকা থাকার কথা ছিল বা থাকে তাদের কাছ থেকেও ডকুমেন্ট ও নথিপত্র নেয়া হবে। তাদের কার কী ভূমিক ছিল তদন্ত কমিটি সেগুলো পর্যবেক্ষণ করবে।

তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করলেও পরবর্তী সমেয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আর প্রকাশিত হয় না। দোষীরাও শাস্তি পায় না এবং যে প্রতিকার দরকার সেটাও করা হয় না। ফলে এ ঘটনাগুলো বারবার ঘটতে থাকে।