রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল ‘ইলেকশনস ডায়ালগ: ইওর পার্টি ভোটার কোয়েশ্চেনস’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে দ্য ডেইলি স্টার। এ সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ডেইলি স্টারের উপদেষ্টা সম্পাদক কামাল আহমেদ
বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এক ধ্বংসস্তূপের ওপর দায়িত্ব নিয়েছে, যার ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের অর্থনীতিকে টেনে তোলা হবে, যাতে দেশের জনগণ স্বস্তিতে থাকে।
দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ একটি স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে। অতীতে বিএনপির শাসনামলে দেশে প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ ছিল এবং বাংলাদেশকে তখন ‘উদীয়মান বাঘ’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
গত কয়েকদিনের ঘটনায় দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। তারা আবার নতুন করে ভাবছে, নির্বাচন আদৌ হবে কি? দীর্ঘ ১৫ বছরের সংগ্রাম, রক্তপাত, ত্যাগ, নির্যাতন-নিপীড়ন ও সবশেষে ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আমরা বাংলাদেশের মানুষ সবসময় নির্বাচন খুব পছন্দ করি। কিন্তু গত ১৫ বছরে এমন একটা অবস্থা তৈরি করা হয়েছে যে নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে পারলে মানুষ যেন বেঁচে যায়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, দুর্ভাগ্যক্রমে সেই সুযোগটাও যেন আমরা প্রায় হারাতে বসার উপক্রম হয়েছে।
আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা যখনই একটা সুযোগ পাই, তখনই কিছু মহল, কিছু ঘটনা সেই সুযোগগুলো বিনষ্ট করে দেয়। আমরা সেই সম্ভাবনাকে দূর করে সত্যিকার অর্থেই আশার সঙ্গে নির্বাচনের দিকে যেতে চাই। বিএনপি প্রথম থেকেই নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে আসছিল। এজন্য আমাদের অনেকেই আবার খোঁটা দিয়েছেন। বলেছেন, বিএনপি শুধু নির্বাচনে যেতে চায়, ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু এখন এটা প্রমাণিত—বিলম্বের কারণে অনেক ঘটনা তৈরি হয়েছে, নির্বাচন বানচাল করে দেয়ার অনেক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আমরা নির্বাচনমুখী দল। আমরা সবসময় নির্বাচন চেয়েছি। আমদের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যাওয়ার। সে কারণেই আমরা আগে থেকেই কিছু কাজ শুরু করেছি। আমরা এত নির্যাতনের মধ্যেও আমাদের মূল জায়গাগুলো থেকে সরে যাইনি। ২০১৬ সালে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ‘ভিশন-২০৩০’ নামে একটা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এখন সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে যে বিষয়গুলো এসেছে, তার অনেকগুলোই সেখানে ছিল। রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করা দরকার, এটা আমরা তখনই উপলব্ধি করেছি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মহাসচিব, বিএনপি।










