শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘পাঠ্যবই নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে ছাপানো বইয়ে যা নেই, তা উপস্থাপন করা হচ্ছে। এডিট করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাইয়ের পদ্ধতি বহাল রাখতে এসব কাজ করছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা মগজ ধোলাইয়ের শিকার হবে না। তারা ভাবতে শিখবে, পৃথিবীকে জানবে। তাদের সেই চিন্তা ও মননশীলতার জায়গাটা স্বাভাবিক রাখতে সরকার সবকিছু করবে।’
গতকাল দুপুরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘৪র্থ সমাবর্তন-২০২৩’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর প্রথমে তিনি যবিপ্রবির প্রধান ফটকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সমাবর্তনের শোভাযাত্রা সহকারে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গবেষণালব্ধ জ্ঞানের ফসলকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রয়োজন হয় উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবগুলো বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে। এটা সত্যিই খুশির খবর।
‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের মূল উপাদানগুলো হবে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট অর্থনীতি ও স্মার্ট সরকার। এছাড়া ২০৩১ সালের মধ্যে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করব। আমাদের সামনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের তৈরি হতে হবে। আর এটি মোকাবেলার মূল হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বর্তমান শিক্ষাক্রম সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তৈরি হয়েছে।
সমাবর্তন বক্তৃতায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সম্পাদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হাসিনা খান গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, ‘জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা তোমার মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। জীবনে শুধু একটি দিকের বৃদ্ধি অন্য দিকগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, কর্মসংস্থান, ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য।’ তিনি বলেন, ‘যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বয়সে নবীন হলেও শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখছে। ’
স্বাগত বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের এ অর্জনের নেপথ্যে ছিল দেশের সরকার, তোমাদের পরিবার, শিক্ষকমণ্ডলী এবং সর্বোপরি এ দেশের জনসাধারণ, যাদের অর্থে পরিচালিত হয় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। তোমরা তাদের কাছে চির ঋণী। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমেই কেবল এ ঋণ পরিশোধ সম্ভব। তোমাদের কাজের ওপরই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা নির্ভর করবে।’
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষসহ বরেণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।










