জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে ৪৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও এটা এখনো চূড়ান্ত নয়। জোটের আসন সমঝোতাও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভুলত্রুটি হওয়াসহ বিভিন্ন চিন্তা মাথায় রেখে বাড়তি কিছু মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। এনসিপির পক্ষ থেকে মোট কতজন প্রার্থী হচ্ছেন তা কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে। এছাড়া যিনিই জোটের প্রার্থী হবেন তার পক্ষে কাজ করবেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এদিকে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে যোগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন না। আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও অন্যতম কাণ্ডারি, মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি যার মুখ থেকে ঘোষিত এবং বিগত সময়ে যিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন সেই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এনসিপিতে স্বাগত। আজ (সোমবার) অনলাইনে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের একটি জরুরি সভা হয়েছে। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদকে এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এনসিপি নির্বাচনী যাত্রায় পুরোপুরি ঢুকে পড়েছে। আসিফ মাহমুদ এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। বরং এনসিপির যেসব নেতা নির্বাচন করবেন, তারা যেন জিতে আসেন এবং সংসদে গিয়ে গণমানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে পারেন, সেজন্য তিনি কাজ করবেন। একই সঙ্গে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কতটি আসনের সমঝোতা হয়েছে এবং এ জোটের সমঝোতার কারণে এনসিপির যারা ভোট করতে পারছেন না তাদের বিষয়ে দল কী ভাবছে জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপির সারা দেশের নেতাকর্মীরা গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কাজ করবেন এবং জোট থেকে যেই প্রার্থী থাকুক না কেন আমরা তার পক্ষে সবাই মিলে কাজ করব। এটা দলের স্বার্থে এবং এ সময়ে আমরা যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতেই। দলের স্বার্থে ও রাজনীতির স্বার্থে সবাই বিষয়টা মেনে নেবেন। তাদের যে ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ সেটা অবশ্যই দল পরবর্তী সময়ে মূল্যায়ন করবে।’
সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমাদের ৪৭টি মনোনয়নপত্র সাবমিট হয়েছে। আমাদের আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমরা কিছুটা বাড়িয়েই মনোনয়নপত্র সাবমিট করেছি। অনেকেরটা বাতিল হতে পারে, অনেক ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আগামী কয়েকদিনে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে যে এনসিপি কয়টি আসনে প্রার্থী দেবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আজ আমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময় বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সামনে জাতীয় নির্বাচনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কিছুদিন আগে আমাদের সহযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। আমি মনে করি, এ সময়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকা ও রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমি এনসিপিতে যোগ দিয়েছি।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সময় উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন। তার পদত্যাগের পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হন মাহফুজ আলম।
গত ১০ ডিসেম্বর মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ পদত্যাগ করেছেন। আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। ওইদিন ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন কাম্য।’
এদিকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা মাহফুজ আলম। গত রোববার লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও জমা দেয়ার শেষদিন গতকাল তিনি তা জমা দেননি।










