ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। ভোটার হতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরদিনই তালিকায় তার নাম উঠল। গতকাল ইসির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তারেক রহমানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেছে।
লন্ডন থেকে ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে গুলশানের বাড়িতে ওঠেন তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনভুক্ত ওই এলাকার ভোটার হতে শনিবার আবেদন করেন তিনি। বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি এ আসন থেকেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়বেন তিনি। গতকাল তার পক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে গিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের আবেদনসহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তারেক রহমান এবং তার মেয়ে জাইমা রহমান। এজন্য তারা আঙুলের ছাপ, আইরিশের প্রতিচ্ছবি, স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেন। ইসি তখন জানিয়েছিল, কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
২০০৭-০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। তারেক রহমান তখন কারাগারে ছিলেন। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। এরপর আর দেশে না ফেরায় এনআইডিও পাননি। তবে গত বছর গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান দেশে এসে ভোটার হন।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটার তালিকা আইনে বলা আছে, ইসি যেকোনো সময় ভোটার হওয়ার যোগ্য যেকোনো ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সে অনুযায়ী তারেক রহমানের আবেদন ইসি অনুমোদন করল।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান তার পৈতৃক এলাকা বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে তার পক্ষে আগেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি এবার ঢাকা-১৭ আসন থেকেও নির্বাচন করবেন তিনি। এজন্য তার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে বেলা ১১টায় তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার।
অন্যদিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গতকাল অফিস করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এজন্য আগে থেকেই আলাদা চেম্বার প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। দেশে ফেরার দুদিন পর গতকাল সেখানে অফিস শুরু করলেন তারেক রহমান। এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য চালু করা কার্যালয়টিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই প্রথম এলেন। বেলা ১টা ৪০ মিনিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের গাড়ি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তিনি গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়ি থেকে অফিসে আসেন।
তারেক রহমান কার্যালয়ে এসে পৌঁছলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মকর্তারাসহ বগুড়া জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দোতলায় নিজের চেম্বারে গিয়ে বসেন তারেক রহমান। তার চেম্বার থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজ (রোববার) প্রথম অফিস করলেন। আমরা তার সঙ্গে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়াদি, সাংগঠনিক ও দেশের আগামী দিনের গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছি। এটা আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না। আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছিলাম, অন্যরাও ছিলেন।’
এদিন সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রমে তার পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম।
প্রথম দিন তারেক রহমান প্রায় ৯ ঘণ্টা অফিস করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি গুলশান কার্যালয় ত্যাগ করেন। সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে। রাত ১০টা ৫৭ মিনিটের দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছেন। ১ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় হাসপাতালে থেকে রাত ১২টার পর গুলশানে বাসার পথে ফিরে যান তারেক রহমান।
এদিকে তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার শিক্ষক একেএম শহিদুল ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
শহিদুল ইসলাম রাজধানীর গাবতলী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তারেক রহমান শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের সময় শহিদুল ইসলাম তাকে কটূক্তি করেন। বিষয়টি দেখে সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গতকাল রাতে গ্রেফতার শিক্ষকের মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দেয় বিএনপি। নিজের মতপ্রকাশের কারণে তাকে গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানো সঠিক হয়নি বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘বিএনপি মনে করে একটি গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনো ব্যক্তির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।’










