কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতীরবর্তী জমিতে গড়ে ওঠা অন্তত তিন শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন গঠিত যৌথবাহিনী। গতকাল সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের প্রথম দিনে তিন শতাধিক অনুমোদনহীন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানে ৫০০ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। 

জেলা প্রশাসনের এ উচ্ছেদ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কস্তুরাঘাট এলাকায় চলে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান। 

তিনি বলেন, ‘‌এর আগে আমরা বলেছিলাম বাঁকখালী নদীর ৫০০-৬০০ একর জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে, সময়ের পরিক্রমায় এ পরিমাণ এখন ৮০০ একর বলে আমরা ধারণা করছি। নদীর শহরের অংশে ১২ কিলোমিটার এলাকায় কয়েকশ দখলদার রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে যতক্ষণ পর্যন্ত উচ্ছেদ শেষ হবে না ততদিন অভিযান চলবে।’

অভিযানের বিষয়ে বিআইডব্লিওটিএ চট্টগ্রামের উপপরিচালক (নদীবন্দর) নয়ন শীল বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বাঁকখালী নদীর ফোরশোর অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শেষ দখলদার থাকা পর্যন্ত অভিযান চলবে।’

অভিযানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহিদ ইকবাল, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ, কক্সবাজার সদরের এসিল্যান্ড জিল্লুর রহমানসহ চারজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত ছিলেন। 

স্থানীয় প্রশাসনের করা অবৈধ দখলদারদের তালিকায় নাম আসে খালেক চেয়ারম্যানসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির। তখন থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েন এ জনপ্রতিনিধি। গতকাল উচ্ছেদ অভিযানেও তিনি বাধা দেন। অভিযানের ছবি তোলায় সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালান তিনি। তবে প্রশাসনের শক্ত অবস্থানে তার অবৈধ সব ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।