দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরু করার দাবি নিয়ে মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশ করেছেন কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা। গতকাল সকাল ১০টার দিকে উখিয়া ও টেকনাফের ১৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একযোগে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যানারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার দাবি জানান। এ সময় তারা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো নাগরিকত্ব, নিজ বসতভিটায় ফেরত, চলাফেরা ও জীবিকার স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 

সমাবেশ শেষে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা বলেন, ‘মিয়ানমারে নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ চলাকালীন প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে, সেজন্য রোহিঙ্গারা কৃতজ্ঞ। এখানে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ক্যাম্পে বন্দি জীবনে আছি। আমরা দ্রুত মিয়ানমারে নিজ বসতভিটায় ফিরে যেতে চাই। এর জন্য আলোচনা চলছে। কিন্তু একটি মহল প্রত্যাবাসন বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে।’  

রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে মরিয়া। নাগরিকত্ব প্রদান করে দ্রুত প্রত্যাবাসন জরুরি।

জাতিসংঘের দ্বৈতনীতির নিন্দা জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা বলেন, রেশন কমিয়ে দেয়া, ফিরতে ইচ্ছুকদের রেশন বন্ধ করা রহস্যজনক। এর থেকে বিরত থেকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে কাজ করার জন্য জাতিসংঘের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন রোহিঙ্গারা।

উখিয়ার লম্বাশিয়া চৌরাস্তার মাথার সমাবেশে বক্তব্য দেন কমিউনিটি নেতা ডা. জুবায়ের, মাস্টার কামাল, মৌলভী নুর হোসেইন, মৌলভী ছৈয়দ উল্লাহ, মাস্টার শামসুল আলম প্রমুখ। ক্যাম্প-৪-এর সাত রাস্তার মাথার সমাবেশে বক্তব্য দেন আবদুল গফুর, রশিদ মিয়া। ক্যাম্প-৯-এর পোড়া বাজারের মাঠের সমাবেশে বক্তব্য দেন মান্নান হোসেন, জোবাইর ও রফিক উল্লাহ।

এ বিষয়ে ৮ এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স ও মিডিয়া) মো. ফারুক আহমেদ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করে রোহিঙ্গারা সবাই নিজ নিজ শেল্টারে চলে যায়। বর্তমানে ক্যাম্পের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। 

উল্লেখ্য, দুই মাস ধরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রত্যাবাসন শুরুর আলোচনা চলছে। সব ঠিক থাকলে চলতি মাসেই ১ হাজার ১৭৬ জন রোহিঙ্গা দিয়ে শুরু হতে পারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। এদিকে প্রকল্পের আওতায় মিয়ানমারে যেতে রাজি হওয়া ২৩ রোহিঙ্গার খাদ্য সহায়তা গত ৫ জুন ইউএনএইচসিআর বন্ধ করলেও পরদিন আবার চালু করে সংস্থাটি।