নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে ইটবোঝাই ট্রাকচাপায় ওষুধ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন (৪৫) ও তার কিশোরী কন্যা মুক্তি আলীফ বেলীর (১৪) মৃত্যুর ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর থানায় মামলা হয়েছে। নিহত বেলীর মা আমেরিকাপ্রবাসী অ্যাডভোকেট আয়েশা রহমান সিদ্দিকী বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে সড়ক পরিবহন আইনে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান।

এ মামলায় বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে একমাত্র আসামি করা হয়েছে ট্রাকচালক হাবিবুর রহমানকে (২৮)। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার হাজীখালী গ্রামের মৃত আবদুল আহমদের ছেলে। ঘটনার পরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক হাবিবুরকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

কিশোরী মুক্তি আলীফ বেলী (১৪) তার মা অ্যাডভোকেট আয়েশা রহমান সিদ্দীকির সঙ্গে থাকত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। সেখানেই একটি বিদ্যালয়ে ‘ও’ লেভেলের নবম শ্রেণীতে পড়ত সে। গত ৩ ডিসেম্বর মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে আসে বেলী। ফিরতি ফ্লাইট ছিল আগামী ২২ ডিসেম্বর। শুক্রবার দুপুরে শহরের জামতলা এলাকায় অবস্থিত খালার বাসা থেকে বাবার সঙ্গে একটি বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বেলী। দুপুর দেড়টার দিকে শহরের চাষাঢ়ায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনে ইটবোঝাই একটি ট্রাকচাপায় মৃত্যু হয় মুক্তি আলীফ বেলী ও তার বাবা আলতাফ হোসেনের।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, রিকশায় ছিলেন আলতাফ ও তার মেয়ে মুক্তি। তাদের রিকশাটি শহরের জামতলা এলাকা থেকে চাষাঢ়ার দিকে যাচ্ছিল। চাষাঢ়ায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর মোড়ে রিকশাটিকে চাপা দেয় দ্রুতগামী একটি ট্রাক। ঘটনাস্থলে আরোহী বাবা-মেয়ে মারা যান। আহত হন রিকশাচালকও।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেলীর বাবা আলতাফ হোসেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের সাওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সেখানেই তিনি একটি ওষুধের দোকান চালাতেন। প্রায় ছয় বছর আগে আলতাফ হোসেনের সঙ্গে আয়েশা রহমানের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর পরই মেয়েকে নিয়ে নিউইয়র্কে চলে যান আয়েশা।