সিলেট নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক বন্দরবাজার-চৌহাট্টা। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের পুরো ফুটপাত দখল করে রেখেছেন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। ফুটপাত ছাপিয়ে সড়কের অর্ধেকটাও তাদের দখলে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ সড়কের যাত্রী ও পথচারীদের। লেগে থাকছে দীর্ঘ যানজট।
বিভিন্ন সময় সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে হকারদের সরিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তাতে সাফল্য মেলেনি। বরং উচ্ছেদের পর পরই ফের সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করে নিয়েছেন হকাররা। অন্যদিকে পুলিশ-সিসিকের তাড়ার কারণে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদেরও সব সময় থাকতে হয় তটস্থ। অবশেষে হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।
নগরের ভ্রাম্যমাণ হকারদের স্থায়ী ঠিকানা করে দিতে গত বুধবার থেকে কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সিলেট মহানগর পুলিশের সহায়তায় নগর ভবনের পেছনের (লালদীঘির পাড়) খালি মাঠে ১ হাজার ৭০ জন হকারকে পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে। এ মাঠে খুঁটি গেড়ে বাঁশ বেঁধে দোকান তৈরির কাজ চলছে।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বন্দরবাজার-চৌহাট্টা সড়ক সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছে সিটি করপোরেশন। এ সড়ককে একটি ‘মডেল সড়ক’-এ পরিণত করার কথা জানিয়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সে লক্ষ্যে এ সড়ক থেকে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদেরও সরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ‘হকারমুক্ত এলাকা’
সাইনবোর্ড টানিয়েছে সিসিক। ফলে প্রাথমিক অবস্থায় বন্দরবাজার-চৌহাট্টা সড়কের হকারদের পুনর্বাসন করা হবে।
সরেজমিন দেখা যায়, নগর ভবনের পেছনের মাঠে বাঁশের খুঁটি গেড়ে তাতে সুতা বেঁধে দোকানের লাইন এবং সীমানা টানা হয়েছে। এরপর মাইকে ডেকে ডেকে লটারির মাধ্যমে হকারদের নাম তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদের তত্ত্বাবধানে চলছে কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজটি শেষ করতে কয়েক দিন লাগবে। হকারদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার আওতায় এনে সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্সও প্রদান করা হবে।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০০৭ সালে আরেকবার এ মাঠে হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে সেখানে ক্রেতারা না যাওয়ায় কিছুদিন পর হকাররা আবার ফিরে আসেন রাস্তা ও ফুটপাতে।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, আমরা গোপনীয়তার সঙ্গে ১ হাজার ৭০ জনের একটি তালিকা করেছি। তাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে দোকান বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। কে কতটুকু জায়গা পেয়েছেন, মোট কতজন পেয়েছেন, তা কাজ শেষে বলা যাবে।
তিনি বলেন, পুনর্বাসনের পর নগরের কীন ব্রিজ থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত সড়কে কাউকে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না। এ সড়ক ও ফুটপাত থাকবে সম্পূর্ণ হকারমুক্ত।
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ফুটপাত পথচারীদের জন্য ও সড়ক যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেখানে কাউকে ব্যবসায় বসতে দেয়া হবে না। আমরা বিভিন্ন সময় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চালিয়েছি। হকারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ও মানবিক কারণে আমরা তাদের খোলা মাঠে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, এর পর থেকে তারা আর সড়ক ও ফুটপাতে ব্যবসা নিয়ে বসবেন না। সড়কে কেউ ব্যবসা নিয়ে বসলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।










