বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে এক বৃদ্ধ ভিক্ষুককে ফেলে দিয়েছেন রেলের এক কর্মী। এতে তিনি মাথায় ও পায়ে আঘাত পান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা পাথর ছুঁড়ে ট্রেনের ২১টি জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এ ভাঙচুরের ঘটনায় ৫ যাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
রেল সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে চেকআপের জন্য সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনে থামানো হয়। এসময় এক বৃদ্ধ ভিক্ষুককে ট্রেন থেকে ফেলে দেন দায়িত্বরত ক্যারেজ অ্যাটেন্টডেন্ট আব্দুল বারী। রেললাইনের পাথরের উপর পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় ও পায়ে আঘাত পান। এ দৃশ্য দেখে স্টেশনের ৩নং লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশ্বরদী থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে বনলতা ট্রেনের ক্যারেজ অ্যাটেন্টডেন্ট ও ট্রেন লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এতে ট্রেনের ২১টি জানালার কাচ ভেঙে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে রেলওয়ের কর্তব্যরত পুলিশ ৫ জনকে আটক করে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় হাজতে পাঠায়। সেই সঙ্গে আহত ওই ভিক্ষুককে রেলওয়ে পুলিশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। জানা গেছে, আজহার আলী (৭০) নামে ওই ভিক্ষুকের বাড়ি পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ি গ্রামে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক ৫ জনকে রেলওয়ে পুলিশ আটক করে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় এনেছে। সিরাজগঞ্জ সদর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন জানান, সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে। তাদে রনামে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- পাবনার আটঘরিয়া থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মান্নান আলী ছেলে মহরম আলী (৩২), সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়া গ্রামের গুচ্ছ গ্রামের তালেব আলীর ছেলে রুবেল হোসেন (২১), উল্লাপাড়ার দহকুলা গ্রামের মোমিন আলীর ছেলে কাওছার আলী (২০), উল্লাপাড়ার আরংজানি গ্রামের বাহাদুর সরকারের ছেলে হোসেন আলী (১৮) ও কামারখন্দ উপজেলার নান্দিনামধু গ্রামের ওয়াহেদ আলী ছেলে আলামিন (১৬)।










