যশোর মোমিননগর সমবায় শিল্প ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নকল করে দুই ব্যাংকে গচ্ছিত ৯২ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া হাত স্লিপের মাধ্যমে সমিতি থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন আরো ৩ লাখ টাকা। তাদের বিরুদ্ধে আনীত এ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

তদন্ত কমিটির প্রধান জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‌মোমিননগর সমবায় শিল্প ইউনিয়নের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে খুলনা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ দেয়া হয়। তাদের অনিয়ম তদন্তে ৭ ফেব্রুয়ারি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে বিভাগীয় কার্যালয়। কমিটির অন্য দুজন হলেন যশোর জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক ইকরামুল হক ও ঝিনাইদহ কার্যালয়ের পরিদর্শক জিল্লুর রহমান। তদন্তে তারা সত্যতা পেয়েছেন। দু-একদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

খুলনা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ে দেয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মোমিননগর সমবায় শিল্প ইউনিয়নে সমিতির সদস্য সংখ্যা ৭৫, যা ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমান সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন অন্য নয়জনের স্বাক্ষর নকল করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনে রেজল্যুশন তৈরি করেন। তারা স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক যশোর শাখায় সঞ্চয় থাকা ১ কোটি টাকার বিপরীতে ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ৫০ লাখ টাকা সমিতির নামে ঋণ হিসেবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে গোপন থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিষয়টি জানাজানি হয়। আর বিভিন্ন সময় হাত স্লিপে সমিতির কার্যালয় থেকে নিয়েছেন ৩ লক্ষাধিক টাকা। অন্যদিকে জমি ক্রয়ের নামে ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর আইএফআইসি যশোর শাখা থেকে উত্তোলন করেছেন ৪২ লাখ টাকা। কিন্তু ইউনিয়নের নামে কোনো জমি ক্রয় করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ও নিবন্ধকের অনুমোদন লাগে, কিন্তু অনুমোদনের তোয়াক্কা করেননি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। 

যশোর জেলা সমবায় কর্মকর্তা এসএম মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘‌মোমিননগর সমবায় শিল্প ইউনিয়নে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পেয়ে খুলনা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মিজানুর রহমান গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন।’ 

তদন্ত কমিটির সদস্য যশোর জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক ইকরামুল হক বলেন, ‘‌চিঠি পেয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শুরু করে কমিটি। দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন তাদের ভুলের কথা।’

মোমিননগর সমবায় শিল্প ইউনিয়নের সভাপতি অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন সেলফোনে বলেন, ‘‌আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা টাকা ফেরত দিচ্ছি।’