শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে এক্ষেত্রে কোনো নির্বাচনী জোট নয়, বরং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে উভয় দলের মধ্যে আসন সমঝোতা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন। সেই সঙ্গে তারা জানান, আলোচনা চূড়ান্ত হলে জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরে গড়ে ওঠা তরুণদের দলটিকে ৫০টি পর্যন্ত আসনে ছাড় দিতে পারে জামায়াত।

এনসিপি সূত্র জানায়, জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে গত বুধবার তাদের দুই দফায় বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। সেখানে জোটের বিষয়ে আলোচনা হলেও তা এড়িয়ে শুধু আসন সমঝোতার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হন দুই দলের নেতারা। সংস্কার, বিচারসহ বেশকিছু মৌলিক ইস্যুতেও তারা একমত হয়েছেন।

আসন সমঝোতা হলে এনসিপিকে কত আসন ছাড়তে হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সূত্র এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে জানায়, এনসিপি অন্তত ৫০টি আসনের নিশ্চয়তা চায়। তবে জামায়াতে ইসলামী ৩০টি আসন দিতে চায়। বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও ৩০-৫০টি আসন এনসিপিকে ছাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এসব আসনে এনসিপির বর্তমান জোটসঙ্গী আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনও থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

এনসিপির একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় বেশি আগ্রহী ছিলেন দলটির অনেক নেতা। তবে বিভিন্ন সমীকরণ শেষে সেখান থেকে সরে আসতে হয়। বিএনপি এরই মধ্যে এনসিপির শীর্ষ সব নেতার আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আপাতত আর কোনো আলোচনাও নেই দলটির সঙ্গে। তাই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেই নির্বাচনী ঐক্যে পৌঁছেছে এনসিপি। এখন আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে এনসিপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকা থেকে শীর্ষ নেতাদের দু-একজনও রদবদল হতে পারেন। কেউ কেউ ঢাকার আসন ছেড়ে নিজ এলাকায়ও নির্বাচন করতে পারেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এনসিপি শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে, শতাধিক আসনে প্রার্থীও ঘোষণা করেছে। তারা এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করলেও আরো দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে যেসব দলের নিবন্ধন নেই তারা শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।