স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে নগরভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় সরকারের হাতে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে শনিবার (৩০ আগস্ট) বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ-২০২৫’-এ দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাতে নগরভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা কীভাবে স্থানীয় সরকারের অধীনে থাকে? বিশ্বের কোথায় এমনটা আছে? স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এমন একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কীভাবে থাকে, যারা স্বাস্থ্য সম্পর্কে কিছুই বোঝে না! এর জন্য প্রথমে প্রয়োজন সরকারের ভেতরের সমন্বয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভেতরের যে বিভিন্ন বিভাগ আছে তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘নগরভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা চিন্তা করলে হলে প্রথমেই এই ব্যবস্থাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, এখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারেত্ব আসা যায় কিনা, সেটাও ভাবতে হবে।’
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে আর্থিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের কথা জানিয়ে আসিফ সালেহ বলেন, ‘দেশে স্বাস্থ্য খাতে প্রতি ১০০ টাকা ব্যয়ের মধ্যে ৭৪ টাকা বহন করতে হয় রোগীকে। এটি বিশ্বে সর্বোচ্চ। কোনো একটি অসুখ হলে সেটা থেকে কীভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি, সেজন্য সরকারি-বেসরকারি একটি সমন্বয় দরকার। সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য খাতে হাজার হাজার কোটি ব্যয় করে। কিন্তু সেটা সঠিক জায়গায় যাচ্ছে কিনা, সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা; তা ভাবতে হবে। আমাদের এ ব্যয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ থাকে না। প্রাথমিক স্বাস্থ্য খাতে আমাদের শক্তিশালী ব্যবস্থা নেই। শহর ও গ্রামের মধ্যে একটি সমন্বয় থাকতে হবে। এর পাশাপাশি একটি মাস্টারপ্ল্যান থাকতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশে অসাধারণ সব মডেল আছে। থাইল্যান্ড তাদের মডেল ব্যবহার করে অসাধারণ উন্নতি করেছে। সে ধরনের মডেল আমরাও ব্যবহার করতে পারি।’
তিনি বলেন, ’গ্রামীণ পর্যায়ে ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত চার স্তরের চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। কিন্তু নগরভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সে ধরনের সমন্বয় নেই, যার কারণে বড় ধরনের রোগে স্বাস্থ্যের অবকাঠামোগুলো ভেঙে পড়ে।’










