স্থান সংকটের কারণে এত দিন সিরাজগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন এলাকা থেকে শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতো না। বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তেন সাধারণ মানুষ। এবার পৌরসভার বর্জ্য থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন উত্পন্ন ময়লা শতভাগ সংগৃহীত হওয়ার পাশাপাশি তা প্রক্রিয়াজাত করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করা হবে। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মিলনায়তনে যুক্তরাজ্যের স্কলারস পাওয়ার লিমিটেড ও তাদের বাংলাদেশী সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনডিউরিং এনার্জি লিমিটেড পৌরবর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করে।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্ন এবং সিরাজগঞ্জ পৌর মেয়র সৈয়দ আবদুর রউফ মুক্তা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম, জেলা প্রশাসক ড. ফারুক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে পরিচিতি বক্তব্য রাখেন স্কলারস পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান শামসুন ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং প্রকল্পটির পরিচিতি বক্তব্য দেন এনডিউরিং এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার এম নুর-এ-আলম।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্কলারস পাওয়ার লিমিটেড ও তাদের বাংলাদেশী সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনডিউরিং এনার্জি লিমিটেডের সঙ্গে ১৫ অক্টোবর একটি চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তি অনুযায়ী স্কলারস পাওয়ার লিমিটেড ও এনডিউরিং এনার্জি লিমিটেড সিরাজগঞ্জে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সলিড রিকভার্ড ফুয়েল (এসআরএফ) উৎপাদনের মাধ্যমে পৌরবর্জ্যের প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপন করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পৌরবর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি দেশ একটি নির্মল, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন পৌরসভা পাবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পৌরবর্জ্য মাটি, পানি, বায়ু দূষণ, রোগবালাই প্রজনন এবং বিস্তারের অন্যতম প্রধান উত্পত্তিস্থল। আমরা আজ যা আবর্জনা হিসেবে ফেলে দিচ্ছি, কাল তা-ই মাটিতে গলে গিয়ে, ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে বা বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে গিয়ে আমাদের শরীরেই আবার ফিরে আসছে। পৌরবর্জ্যের জৈব অংশ পচন প্রক্রিয়ায় মিথেন গ্যাস তৈরি করে, যা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ৩০ গুণ ক্ষতি করে বায়ুমণ্ডলের। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পরিবেশ দূষণও কমবে।