মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার দেয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প বাংলাদেশ ও তুরস্কের উড়োজাহাজ কেনার ঘটনাকে বোয়িং ও মার্কিন উৎপাদন খাতের জন্য ‘বড় দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

এদিকে গত বুধবার বোয়িং জানায়, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী টার্কিশ এয়ারলাইনস ১০০টি উড়োজাহাজ কিনেছে। পাশাপাশি আরো ৫০টি উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ট্রাম্প তার পোস্টেও বলেন, ‘তুরস্ক ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ১১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এর সঙ্গে আরো ৫০টি উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ রয়েছে।’ এ ক্ষেত্রে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

উড়োজাহাজ বিক্রির এ আয় এবং বড় পরিমাণের মার্কিন রফতানি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে তিনি লেখেন, বোয়িং ও তিনি যে বিষয়টি সব সময় জানতেন, বাজার এখন সেটিই স্বীকার করছে। তার ভাষায়, ‘আপনি যখন আমেরিকায় উৎপাদন করবেন, আমেরিকা থেকে রফতানি করবেন এবং মার্কিন কর্মীদের সমর্থন করবেন, তখন আপনার কোম্পানি আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’ পোস্টের শেষে বোয়িং ও প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক চিঠি পাঠান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা তিনি সবসময় মনে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না।