ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী। জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলাটিতে পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলামসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে মামলায় এজহার নামীয় এক নারীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ন্যায়বিচারের দাবিতে কোটচাঁদপুরে স্থানীয় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। এসময় ওই নারীর সঙ্গে তার আত্মীয় স্বজন ছাড়াও স্থানীয় উপস্থিত ছিলেন।
ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, গেল বছর ২১ ফেব্রুয়ারি পৌর মেয়রের মালিকানাধীন ‘কোটচাঁদপুর নার্সিং হোম’ নামের ক্লিনিকে আসামি আজাদ আমাকে মৌলভী ডেকে ভুয়া কাবিননামা দিয়ে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। তারপরও বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে আমাকে ঘরে তোলার জন্য আজাদকে চাপ দেই। গেল বছর ২৬ আগস্ট বিকেলে আজাদের সাথে দেখা করতে আমি নার্সিং হোমে আসি। এ সময় বাগ-বিতন্ডা হলে এক পর্যায়ে আজাদ মোবাইল ফোনে স্থানীয় পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলামকে ক্লিনিকে ডেকে আনেন।
তিনি আরো বলেন, এসময় নার্সিং হোমের নার্স রুমা ও আয়া গোলবানু আমাকে একটি কক্ষে আটক রাখেন। পরে মেয়র জাহিদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি জানার জন্য ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় আজাদ, রুমা ও গোলবানু বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। মেয়র জাহিদ আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে আমাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি আজাদ ও ক্লিনিকের আয়া ও নার্সদের জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারপিট করে তাড়িয় দেয়।
আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন কাউকে কিছু জানাতে পারেননি বলেও দাবি করেন এই নারী। পরে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করলে গত ১২ জানুয়ারি বিষয়টি আমলে নিয়ে কোটচাঁদপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুল আলম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা চলমান।
মামলাটিতে নার্সিং হোমের আয়া গুলবানুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাটানো হয়েছে জানিয়ে ওসি জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে অন্য আসামিরা পলাতক।
বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। একটি মহল আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মামলায় জড়ানো হয়েছে।










