নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই বরং নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা আছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গতকাল নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় এ কথা বলেন তিনি।

ডা. আইভী বলেন, সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে, কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তিনি এবং তার লোকজন সবাই নৌকার পক্ষেই কাজ করছেন। আর তৃণমূলের কর্মীরা সব সময়ই আমার সঙ্গে আছেন। বিগত নির্বাচনে ছিলেন, এখনো আছেন। তৃণমূলে কোনো বিভেদ নেই।

এ বিষয়ে তৈমুর আলম বলেন, মেয়র আইভী ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে যে দ্বন্দ্ব আছে তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী, জনগণের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামিক দলসহ সবার ভোট চাই। আশা করছি সবার ভোট পাব।

শামীম ওসমানের সঙ্গে কথা বা দেখা হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তৈমুর আলম বলেন, ছয় মাস আগে আমার মা-বাবার কবরস্থান জিয়ারত করার সময় তার সঙ্গে দেখা হয়েছে। সালাম বিনিময় ছাড়া আর কোনো কথা হয়নি। তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালের নির্বাচনে দল আমাকে নির্বাচনের ৫ ঘণ্টা আগে বসিয়ে দিয়েছে। শ্রমিক দলের একটি জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছিলেন, শামীম ওসমানকে ফেল করানোর জন্যই বিএনপির প্রার্থী তৈমুর আলমকে বসিয়ে দেয়া হয়েছিল। আসলে মানুষের মন কখন কোথায় যায়, এটা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে আমার সঙ্গে শামীম ওসমানের কোনো কথা হয়নি।

তৈমুর বলেন, বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীরা মনে করেন তিনি তাদের আশ্রয়স্থল। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে গুলি ও পুলিশের মার খেতে হয়েছে। কিন্তু তার পরও জনগণের পক্ষে কথা বলেছি। তাই আগামী নির্বাচনে দল-মত নির্বিশেষে ভোটাররা হাতি প্রতীককে ভোট দেবেন বলে আশা করি।

আইভী গতকাল সিটি করপোরেশনের ১০ নং ওয়ার্ডের বার্মাস্ট্যান্ড, পাঠানটুলি, এসিআই পানিরকলসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। অন্যদিকে তৈমুর আলম বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে সিটি করপোরেশনের ৭ নং ওয়ার্ডের কদমতলী, ভাণ্ডারীরপুর, নয়াপাড়, পশ্চিমপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।