দেশে ফেরার দুইদিন পর আজ ভোটার তালিকায় নিজের নাম ওঠানোর পদক্ষেপ নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এজন্য তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাবেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়ার একটি আসন থেকে দলের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তারেক রহমানের ভোটার হওয়ার বিষয়টি ২২ ডিসেম্বর জানিয়েছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এক সংবাদ সম্মেলনে ওইদিন তিনি বলেছিলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আগামী শনিবার (আজ) ভোটার হওয়ার জন্য সব কার্যক্রম শুরু করবেন। ভোটার তালিকায় নাম তুলতে নিজেই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আবেদন করবেন।’

এরই মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটার তালিকা আইনে বলা আছে—ভোটার হওয়ার যোগ্য ব্যক্তির নাম ইসি যেকোনো সময় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ভোটার তালিকা আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যক্তিকে যেকোনো সময় ভোটার করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইনগতভাবে কোনো বাধা নেই।’

লন্ডনে যাওয়ার পর তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদও ফুরিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তা নবায়নের সুযোগ পাননি। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে ট্রাভেল পাস নিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অবশ্য কোথায় ভোটার হতে চাইছেন, তা দলের পক্ষ থেকে এখনো জানানো হয়নি। লন্ডন থেকে ফিরে তিনি উঠেছেন গুলশানে মা খালেদা জিয়ার বাসা ‘ফিরোজা’র কাছের একটি বাড়িতে। আবার আগামী নির্বাচনে পৈতৃক এলাকা বগুড়ার সদর (বগুড়া-৬) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার পক্ষে স্থানীয় নেতারা এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

২০০৭-০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান লন্ডনে যান এবং এরপর দেশে ফেরার সুযোগ না পাওয়ায় ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে পারেননি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান দেশে এসে ভোটার তালিকায় নাম লেখান। তারেক রহমানের মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের ঠিকানায় ভোটার হন।