শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা আড়াইটায় শিক্ষার্থীরা এ অনশন শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সিন্ডিকেট নির্বাচনও স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অন্যদিকে দুপুরে শিক্ষার্থীদের ‘কটূক্তিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ’ স্লোগানের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে তারা এর প্রতিবাদ জানান।

অনশনে বসা শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাব।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সে সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার নামের এক শিক্ষার্থী বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আলটিমেটাম দেন। পদত্যাগ না করলে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।

অন্যদিকে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সিন্ডিকেট নির্বাচন স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মূল ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের ‘কটূক্তিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ’ স্লোগানের প্রতিবাদে শিক্ষকরা মাঠে নামেন। তারা প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করে ঘরে ফেরার আহ্বান জানান। প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুন, অধ্যাপক ড. চন্দ্রানী নাগ, সহকারী অধ্যাপক ফাহমিদা সুলতানা, শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ মুন্নাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি নিয়ে শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে এটা তাদের বিষয়। কিন্তু আমরা যারা মহান এ পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছি, আমাদেরও পরিবার-পরিজন আছে। শিক্ষার্থীরা যেভাবে শিক্ষকদের নিয়ে কটূক্তি, কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা ছড়াচ্ছে তা আমরা মেনে নিতে পারছি না। তার প্রতিবাদে আমরা এখানে সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়িয়েছি।

রোববার পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। ওইদিনই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে হলে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বেগম সিরাজুননেসা ছাত্রী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ চারদফা দাবিতে ১৩ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা হয়। এরপর আন্দোলন নতুন মোড় নিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে পরিণত হয়।